গভীর রাতে রক্তাক্ত অন্তঃস্বত্তাকে কোলে নিয়ে হাসপাতালে র্যাব কমান্ডার (ভিডিওসহ)
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারা দেশে যান চলাচল বন্ধ। এ পরিস্থিতিতে প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলেন এক শ্রীমঙ্গলের এক গৃহবধূ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরন হচ্ছিলো ওই গৃহবধূর। গভীর রাতে গাড়ি না পেয়ে মুঠোফোনে র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কামান্ডার শামীম আনোয়ারের কাছে সহায়তা চান।
ফোন পেয়ে তাৎক্ষনিক গাড়ি নিয়ে ছুটে যান র্যাব কমান্ডার। রক্তাক্ত অবস্থায় নিজের কোলে তুলে অন্ত:স্বত্তা ওই মাকে নিয়ে যান হাসপাতালে। নিচতলা থেকে কোলে করে তিন তলার প্রসূতি ওয়ার্ড অবধি পৌঁছে দেন তিনি। পরে সেখানে একপুত্র সন্তানের জননী হন সে গৃহবধু।
বর্তমানে মা ও ছেলে উভয়েই সুস্থ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এমন ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল। নবজাতকের নাম রাখার অনুষ্ঠানে র্যাব কমান্ডার শামীম আনোয়ারকে দাওয়াত করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।
সঠিক সময়ে ওই গৃহবধুকে হাসপাতালে নিয়ে না আসলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা ছিল বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ। তিনি বলেন বেশ রক্তত্ব অবস্থায় র্যাব কমান্ডার হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে নরমাল ডেলিভারী মধ্যে দিয়ে গৃহবধৃর একপুত্র সন্তানের জন্ম দেন। র্যাব কমান্ডারের এমন মহানুভবতাকে সাধুবাদ জানান ডা. সাজ্জাদ।
গৃহবধুর স্বামী রঞ্জিত দাস র্যাব কমান্ডারের প্রতি কৃতজ্ঞা জানিয়েছে মা-সন্তান ভালো আছেন বলে জানান।
নিকট আত্মীয় নির্মল বলেন, আমি ফোন দিতে ভয় পাচ্ছিলাম। র্যাব কমান্ডার এমন কাজ করবেন আমার বিশ্বাসই হয়নি। র্যাব সর্ম্পকে আমার ধারনা পাল্টে দিয়েছে এ ঘটনায়। আমরা শামীম স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ।
এ প্রসঙ্গে র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কামান্ডার এএসপি শামীম আনোয়ার বলেন, আমি তখন রাত্রিকালীন টহল ডিউটিতে। ফোন পেয়ে সেখানে পৌঁছে দেখি প্রসূতি মা-টি খুব সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে আছেন। রক্তক্ষরণ হচ্ছে, প্রসব বেদনাও প্রচন্ড, কিন্তু বাচ্চা প্রসব হচ্ছে না। গাড়িতে তুলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। নিচতলা থেকে কোলে করে তিন তলার প্রসূতি ওয়ার্ড পর্যন্ত নিতে নিতে পুরো ইউনিফর্ম প্রসব বেদনার রক্তে ভিজে গিয়েছিলো।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তবুও আমি খুশি। যাঁদের ট্যাক্সের টাকায় দু’টা ডালভাত খাই, তাদের প্রয়োজনের মুহূর্তে রেসপন্স তো করতে পেরেছি।
এএসপি আনোয়ার ৩৪ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে তিনি র্যাব-৯-এ কর্মরত রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার বড়বিল এলাকায়।
ভিডিও…
অন্তঃস্বত্তা নারীকে কোলে করে হাসপাতাল পৌঁছালো র্যাব কমান্ডার
গভীর রাতে রক্তাক্ত অন্তঃস্বত্তা নারীকে কোলে করে হাসপাতাল পৌঁছালো র্যাব কমান্ডার
Gepostet von Barta Bazar am Montag, 27. April 2020
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস