চারশ’ অসহায় মানুষকে খাবার দিলেন সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান রাজীব

করোনাভাইরাস সংক্রমনের কারণে সারাদেশ লকডাউন। সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সহ সব কিছুই বন্ধ। গণপরিবহন চলছে না। এমনকি যাযাবর শ্রেণির মানুষ সহ ভিক্ষুকরাও বের হচ্ছে না বাইরে। কাজ না থাকায় আয়ের পথ খোলা নেই কারও। জমানো টাকাও শেষ। এই যখন দেশের সার্বিক অবস্থা, দুঃস্থ ও কর্মহীন মানুষের দূর্বিষহ অবস্থা সহজেই অনুমেয়।

এরকম ভয়াবহ অবস্থায় অসহায় এসব মানুষের পাশে এসে দাঁড়ালেন একজন উপজেলা চেয়ারম্যান। নিজের এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে পবিত্র রমজান মাসে তাদের অন্তত একবেলা ভালো মানের খাবার তুলে দিতে মাসব্যাপী এক কর্মসূচী হাতে নিলেন নিজের টাকা খরচ করে। তিনি মঞ্জুরুল আলম রাজীব।

সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সফল ছাত্রনেতা মানবতার ফেরিওয়ালা রাজীবকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছুই নেই। দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটু একটু করে পরিশ্রম ও নীতিতে অটল থেকে আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন।

মাসব্যাপী অসহায় মানুষদের খাবার তুলে দেবার আজ (সোমবার) ছিলো তৃতীয় দিন। গত দুই দিনের মতো আজও তিনি চারশো দুঃস্থ মানুষকে ভুনা খিচুড়ি বিতরণ করেছেন। সাভার উপজেলা পরিষদ এর তাঁর সরকারি বাসভবন এর পাশে মেহনতী খেটে খাওয়া মানুষদের হাতে হাতে এই ভুনা খিচুড়ি তুলে দিয়েছেন মানবতার কান্ডারি এই উপজেলা চেয়ারম্যান।

নিজের বাড়িতে খিচুড়ি এবং গরুর গোশত আলাদা আলাদা ভাবে রান্না করে শেষে ওগুলি আবার একসাথে রান্না করায় এর খাদ্যমান নিয়ে কোনো প্রশ্নের অবকাশ নেই। অন্য ইফতার আইটেমের সাথে এর রয়েছে অনেক পার্থক্য। শুধু সাধারণ ইফতার আইটেম দিলে করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষদের খাবারের ক্ষুধা মিটতো না। তাই মাসব্যাপী এই খাবার বিতরণের চিন্তার ভিতরেই প্রকাশ পায় একজন মানবিক নেতার বিচক্ষণতা।

সাভার উপজেলা পরিষদে তাঁর সরকারি বাসভবনের পাশে একটি প্যান্ডেল করা হয়েছে। সেখানে থরে থরে সাজানো হয়েছে ভুনা খিচুড়ির প্যাকেট যাতে পর্যাপ্ত খাবার দেয়া আছে। সেখানে বসে বিতরণ করেই তিনি দায় সারেন নাই।

নিজে ঘুরে ঘুরে অসহায়, পঙ্গু মানুষদের কাছে গিয়ে নিজ হাতে তুলে দিয়েছেন খাবার! এটাই আক্ষরিক অর্থে একজন জননেতার কাজ। এরকম ঘটনা আমরা মুসলিম ইতিহাসের স্বর্ণযুগে হযরত ওমর (রাঃ) কে রাতের আঁধারে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে করতে শুনেছি।

ছবি:বার্তাবাজার।

এব্যাপারে মঞ্জুরুল আলম রাজীব গণমাধ্যমকে জানান, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে খাবারের খুব সঙ্কট কাজ না থাকার কারণে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার জি আর এর ত্রাণ বিতরণ চলছে। কিন্তু কেবলি ওই ত্রাণের দিকে তাকিয়ে থেকে আমরা যারা জনপ্রতিনিধি এবং অবস্থাসম্পন্ন মানুষ রয়েছি, আমাদের দায় এড়াতে পারিনা।
ছবি:বার্তাবাজার।

ক্ষুধার কষ্ট পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় কষ্ট। এজন্যই রমজানের এই সারা মাস আমি অসহায় ও ক্ষুধার্তদের ভুনা খিচুড়ি বিতরণ করছি। এতে তারা সারাদিন রোজা রেখে অন্তত একবেলা খুব ভালোভাবে তৃপ্তি মিটিয়ে খেতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ দেশের একটা মানুষও যেন এই পরিস্থিতিতে না খেয়ে থাকে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমি কাজ করে যাচ্ছি। সাভারে অন্য যারা বিত্তবান রয়েছেন, এই অসহায় মানুষদের মুখে অন্তত একবেলার খাবার তুলে দিতে তাদেরও এগিয়ে আসা উচিৎ বলে আমি মনে করি। আর এটাই আসল ধর্ম, এটাই মানবতা এবং এটাই জনগণের কল্যানমূলক রাজনীতি।

ছবি:বার্তাবাজার।

এই ভুনা খিচুড়ি বিতরণের সময় মঞ্জুরুল আলম রাজীবের সাথে এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন, সাভার থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন, সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ কবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোঃ সফিউল্লাহ সুজন, পাথালিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হোসেন প্রমুখ।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর