কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ডলফিনের মৃত্যু নিয়ে হয়েছিল অনেক বিতর্ক। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মিঠাপানির ডলফিন ধরে ছবি তুলে সমালোচনার মুখে পড়লেন জেলেরা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) শরীয়তপুরের সখিপুর এলাকায় এক জেলে মিঠাপানির ডলফিন বা শুশুক হাতে নিয়ে ছবি তোলেন। সেই ছবি আবির মাহমুদ নামের একজন ফেসবুকের একটি গ্রুপে আপলোড করে দেন।
ছবিটার ক্যাপশানে তিনি লিখে দেন, আজ সকালেই পদ্মা নদীতে স্থানীয় জেলে মোস্তফা মোল্লার জালে ধরা পড়েছে এই ডলফিন।
ত্যারপর থেকেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। তবে আবির মাহমুদ জানান, ছবি তোলার পর শুশুকটিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ওই পোস্টে দোষীদের বিচার দাবি করে করেছেন অনেকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্যপ্রাণী গবেষক আদনান আসিফ আজাদ বলেন, জলজ এ ধরনের প্রাণীদের ধরলে বা জালে আটকালে, উত্যক্ত করলে, ভয় দেখালে এদের প্রচুর মাত্রায় ল্যাক্টিক এসিড নির্গত হয়, যার ফলে এরা দুর্বল হয়ে মারাও যেতে পারে। এছাড়া এসবের জন্য স্ট্রেসের কারণেও ওরা মারা যেতে পারে বলে জানিয়ে এ গবেষক বলেন, এসব প্রাণীদের উদ্ধার করতে গেলেও খুবই সাবধানে হ্যান্ডেল করতে হয়, তা না হলে পুনরায় এদের অবমুক্ত করলেও মারা যেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এস এম জহির উদ্দিন আকন সময় সংবাদকে বলেন, জলের প্রাণীদের নিরাপত্তা দেয়ার মতো পর্যাপ্ত জনবল বন বিভাগে নেই। আইনিভাবে এখানে মৎস্য বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থাকায় চাইলেও অনেক কিছু করা যায় না। তারপরও আমরা খবর পেয়ে ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।
উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফে শাপলাপুর বিচে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় একটি ডলফিনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরিবেশবাদীরা স্থানীয় জেলেদের দুষলেও সেই দায় অস্বীকার করে আসছেন মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।
বার্তাবাজার/এসজে