মোট ১২টি কোপে দিহানকে হত্যা করেছিল তার চাচী

চার বছরের ফুটফুটে শিশু দিহানকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করায় গ্রেফতার করা হয়েছে তারই আপন চাচী রেশমা আক্তারকে (২৫)। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরবেলা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ির পেছন থেকে কলাপাতায় মোড়ানো দিহানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মায়ের উপর থাকা আক্রোশ মিটাতেই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। সর্বমোট ১২টি কোপে শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত করেছে পাষন্ড রেশমা।

এই ঘটনায় সন্দেহাতীতভাবে রোববার (২৬ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী আবুল হোসেনের বাড়িতে নিজ ঘর থেকে রেশমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার রেশমা আক্তার (২৫) শিশুটির বড় চাচা মো.হাশেমের স্ত্রী। নির্মম খুনের শিকার আবদুল্লাহ আল দিহান প্রবাসী দিদারুল আলমের ছেলে।

রোববার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে বাড়ির পেছনে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে কলাপাতায় মোড়ানো পেট কাটা ও শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম অবস্থায় দিহানের লাশ পাওয়া যায়।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আক্তার জানান, ‘হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে যাই। শুরু থেকেই রেশমার আচরণ আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে খুনের কথা স্বীকার করে। খুনের পর রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখা ধারালো অস্ত্রটিও সে আমাদের বের করে দিয়েছে।’

বাবুল আক্তার আরও বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে রেশমা জানিয়েছে, দিহানের মায়ের সঙ্গে তার স্বামী হাশেমের অবৈধ মেলামেশা একদিন দেখে ফেলে সে। এরপর ওই নারীর প্রতি আক্রোশ তৈরি হয়। দুপুরে দিহানকে একা পেয়ে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে কুপিয়ে খুন করে। তারপর লাশ লুকিয়ে রেখে নিজেই রক্ত পরিষ্কার করে।’

দিহানের পেটে তিনটি, মুখে ৬টি, বুকে ২ টি এবং পিঠে একটিসহ মোট ১২টি কোপের চিহ্ন সুরতহাল প্রতিবেদনে এসেছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর