করোনাভাইরাসের কারনে সারাদেশের মত মাগুরাতেও দেখা দিয়েছে কৃষি শ্রমিকের সংকট। যে কারনে মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা ক্ষেত থেকে ধান কাটতে না পেরে পড়েছেন বেশ বিপাকে। তবে কৃষকদের এই বিপদের সময় পাশে দাড়িয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তারা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে এসব কৃষকদের ক্ষেতের পাকা ধান কেটে দিচ্ছেন। রোববার থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম তারা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সদরের রায় গ্রামের কৃষক ইনজাল মোল্যা ও গোলাম কওসার জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো ধানের ভাল ফলন হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতের ধান পেকে সোনালী রং ধারণ করতে শুরু করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই তারা চাইছেন মাঠ থেকে ধান ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তুলতে। কিন্তু হঠাৎ ভয়াবহ করোনাভাইরাসের কারনে এ বছর পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর থেকে কৃষি শ্রমিক আসা বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারনে তারা পড়েছেন বিপাকে। কৃষকদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে তারা নিজ গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হুসাইনকে বলেন, তাদের পাশে দাড়ানোর জন্য। তাদের কথায় সাড়া দিয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা রোববার তাদের দুইজন কৃষকের তিন বিঘা জমি ধান কেটে দেন। এতে তাদের ব্যাপক উপকার হয়েছে বলে জানান।
মাগুরা শহরের আদর্শ কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হুসাইন ও জেলা ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় কৃষকদের কথায় সাড়া দিয়ে রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা কিছু ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রায়গ্রাম মাঠে দুইজন কৃষকের তিন বিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছেন।
নাজমুল হুসাইন জানান, দলীয় প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় এমপি সাইফুজ্জামান শিখর বর্তমান করোনা পরিস্থিতে ছাত্রলীগকে কৃষকের পাশে দাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। যে কারনে মাগুরার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আদর্শ কলেজ ছাত্রলীগ স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে কৃষকদের ধান কেটে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। রোববার নিজ এলাকার দুইজন কৃষকের তিন বিঘা জমির ধান কেটেছেন। তাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মীর মেহেদী হাসান রুবেল জানান, করোনায় মানুষের সকল ধরনের সমস্যার পাশে দাঁড়ানোর জন্য মাগুরা ১ আসনের এমপি মহোদয় এডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর এর নির্দেশনা রয়েছে,যতদিন এই দুর্যোগ থাকবে ততদিন আমরা ছাত্রলীগ পরিবার অসহায় কৃষকের পাশে থাকবো।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, খাদ্য উদ্বৃত্ত জেলা মাগুরায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। যেখান থেকে উৎপাদন হবে প্রায় এক লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন চাল। যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে, জাতীয়ভাবে খাদ্য নিরাপত্তায় ভুমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বার্তা বাজার/এম.সি