আশুলিয়া বাজার পরিদর্শনে সন্তোষ প্রকাশ করলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব রোধে নিয়মিত হাট-বাজার ‘মনিটোরিং’ এর ধারাবাহিকতায় ঢাকার সাভারের আশুলিয়া বাজার পরিদর্শনে এসে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সাভার সার্কেল এএসপি। রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে আশুলিয়া স্কুল ও কলেজ মাঠে সম্প্রতি স্থাপিত বাজার পরিদর্শন করতে এসে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ এবং সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহমিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান।
এসময় তারা বাজারের বিভিন্ন দোকানগুলি ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে তাদের উভয়পক্ষের সুবিধা-অসুবিধা জানা সহ সরকার ঘোষিত নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে কিনা সেটা পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে তারা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সম্রাট এর নির্দেশনায় গঠিত মেডিকেল ক্যাম্পের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কীয় কর্মকান্ড দেখে এবিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সম্রাট কর্তৃক পরিচালিত এবং জসিম উদ্দিন পিন্টু মোল্লার ইজারাকৃত অস্থায়ী কাঁচাবাজার আশুলিয়া স্কুল ও কলেজ মাঠে স্থানান্তর করা হয়। এই বাজার এখানে স্থাপনের পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর আজ (রবিবার) এটা তৃতীয় ধাপের পরিদর্শন ছিলো।
সরেজমিন আশুলিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশ মুখেই এক দল স্বেচ্ছাসেবক জীবাণুনাশক স্প্রে করে আগত ক্রেতা সাধারণ এবং তাদের যানবাহনগুলো জীবাণুমুক্ত করছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দ্বারা পরিচালিত ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসাধারণের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য। সরকার ঘোষিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রত্যেকটি দোকানে আলাদা করে বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি দোকানের দূরত্ব ন্যুণতম ৩ ফিট নিশ্চিত করা হয়েছে দেখা গেছে। এর পাশাপাশি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক সতর্কতামূলক মাইকিংয়ের মাধ্যমে বাজারে আগত ক্রেতা সাধারণকে করোনা প্রাদুর্ভাবের করনীয় সম্পর্কেও সচেতন করতে দেখা যায় বাজার কমিটির সদস্যদের নির্দেশনায় স্বেচ্ছাসেবকদের।
তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং অন্যান্য বাজার কমিটির জন্য অনুপ্রেরণার যে বিষয়টি দেখা গেছে তাহলো, সাইদুর রহমান সম্রাট পরিচালিত এই কাঁচাবাজারে আগত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রকার খাজনা নেওয়া হচ্ছেনা ! আরও জানা গেছে, যতদিন পর্যন্ত করোনা প্রাদুর্ভাব থাকবে ততদিন পর্যন্ত এই খাজনা মওকুফ থাকবে।

এব্যাপারে আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে হাটবাজার পরিদর্শন করা একটি অন্যতম দায়িত্ব। এর ধারাবাহিকতায় আমি এই বাজারে এসে দেখলাম যে এখানে মোটামুটি একটি দোকান থেকে আরেকটি দোকানের দূরত্ব চমৎকার ভাবে মানা হচ্ছে। দশ থেকে পনের ফুট এই দূরত্ব। আর এখানে দুই দোকানের মাঝে এতটা দূরত্ব বিধায় মোটামুটি ফাঁকাফাঁকাই সব দেখা যাচ্ছে।

গণমাধ্যমকে তিনি আরও জানান, আমরা রমজান মাসের শুরুতে বাজার ‘মনিটরিং’ করি। এসময় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যেমন চাল, ডাল, ছাওলা সহ বিভিন্ন ইফতারির ‘আইটেম’ সহ অন্যান্য জিনিসের দাম ঠিক রয়েছে কিনা কিংবা বিক্রেতারা দাম অত্যধিক বেশী রাখছেন কিনা-এটাও ‘মনিটরিং’ করা আমাদের দায়িত্ব। এসব দিক বিবেচনায় এই বাজারে এসে আমরা দেখলাম মোটামুটি এখানে সবকিছু চমৎকার ভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

গণমাধ্যমকে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহমিদুল ইসলাম জানান, সারাবিশ্বে করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব এবং ঘরে থাকার বিষয়টি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করতে মানুষ যখন বাইরে বের হয়, তখন আসলে বাজারে সামাজিক দূরত্বটা ‘মেইনটেন’ করাটা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এখানে এসে আমি দেখলাম, সরকারী নির্দেশনা মেনে এখানে আশুলিয়া স্কুল ও কলেজের মাঠে তারা এই বাজার বসিয়েছে। এখানে ক্রেতারা যারা আসছেন, সুন্দর দূরত্ব রক্ষা করে তারা বেচাকেনা করছেন। এই বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাটা মোটামুটি সন্তোষজনক।

এসময় তিনি আরও বলেন, এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। আমরা ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিকভাবে সাভার এবং আশুলিয়ার বাজার ‘মনিটর’ করছি। এখানে মানুষ যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে এজন্য সবাইকে আমরা অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করছি। এটা খুব সুন্দর বিষয় যে, এই বাজারের ‘ইন্টারন্যাল কমিটি’তে যারা আছেন, তাদেরকে আমরা বলেছি এখানে যারা আসে তাদের সকলকে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে। তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে, এজন্য অন্তত এই বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সহাবস্থানকালে করোনাভাইরাস সংক্রমনের হার অনেকটাই কমবে।

পরিদর্শনকালে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- আশুলিয়া অস্থায়ী কাঁচাবাজারের ইজারাদার জসিম উদ্দিন পিন্টু মোল্লা, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগ নেতা শাহীন চৌধুরী দ্বীপ, আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ তৌহিদ, আল ইমরান, ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।