করোনা: সাতক্ষীরায় রোগীর বাড়িসহ অপর ৫ বাড়ি লকডাউন

সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তিনি পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী। তার বাড়ি সাতক্ষীরা শহরের উত্তর কাটিয়ায়। তবে তিনি তার কর্মস্থল যশোর জেলার শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রবিবার সকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে তার দেহে করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। তিনি শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও কর্মকর্তা ডাঃ ইউসুফ আলীর বরাত দিয়ে জানান, টেকনিশিয়ান মাহামুদুর রহমান সুমনের নমুনা শনিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগার পাঠানো হয়। রবিবার পাওয়া প্রতিবেদনে সুমনের করোনা ভাইরাস পজেটিভ বলে জানানো হয়। সুমন বর্তমানে তার নিজ বাড়ি সাতক্ষীরাতেই অবস্থান করছেন। তার পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ বাড়িটি লক ডাউন করা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্যকর্মী মাহামুদুর রহমান সুমন রবিবার বিকালে সাংবাদিকদের জানান, প্রতিদিন তিনি বাড়ি থেকে শার্শায় অফিস করেন। দু’দিন আগে তার অফিসের অপর এক কর্মীর করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। ওই স্বাস্থ্য কর্মীর সংস্পর্শে থাকায় শনিবার তার শরীর থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। তার শরীরে করোনা পজেটিভ বলে রবিবার দুপুরে তাকে জাননো হয়। স্ত্রী, ছেলে, বাবা ও মাকে নিয়ে আমি একসাথে বসবাস করি। বিকালে উপজেলা প্রশাসন তার বাড়ি লক ডাউন করেছে। তিনি জানান, তার শরীরে সর্দি, কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট ছিল না। শরীর করোনার কোন উপস্থিতি তিনি টের পাচ্ছেন না।

সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা: মাহবুবুর রহমান জানান, মাহমুদ হাসান সুমন বর্তমানে সাতক্ষীরার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তার বাড়িসহ আশেপাশের পাঁচটি বাড়ি লোকডাউন করা হবে।

এব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, আমি আক্রান্তের সাথে কথা বলেছি। সে যেন মানসিকভাবে চাঙা থাকে দুশ্চিন্তা না করে বা নিজেকে দোষারোপ না করে সে পরামর্শ দিয়েছি। বলেছি তোমার পাশে আমি আছি। তুমি দ্রুত আরোগ্য লাভ করবা।

ইতোমধ্যে ঐ বাড়িসহ তার সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদের চিহ্নিত করে লকডাউন করা হয়েছে। যেহেতু তিনি একটি আক্রান্ত জেলায় হাসপাতালে চাকরি করতেন সে কারণে তার আক্রান্ত হওয়া খুব স্বাভাবিক। তদুপরি আমি সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করেছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকা বা খুলনায় তার পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে।

জেলা প্রশাসক বলেন, এ সংবাদে আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে অধিক সতর্ক হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। মনে রাখতে হবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ আজ আক্রান্ত বাংলাদেশের প্রায় সব জেলা আক্রান্ত হয়েছে।
তবে এটা ঠিক আমরা সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা নেওয়ার পরও অসচেতনতার জন্য আজ আমরা এমন সংবাদের মুখোমুখি। আমাদেরকে আরো সমন্বিতভাবে কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে করোনা মোকাবিলা করতে হবে বলে ও জানান জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর