কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ঐতিহাসিক স্হাপনা রয়েছে এগারসিন্দুর গ্রামে। পর্যটনশিল্পের হাতছানি দিচ্ছে বারভূঁইয়া প্রধান ঈশাখার দূর্গ, সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত সাদী মসজিদ, শাহ মাহমুদ মসজিদ ও অপূর্ব সুন্দর বালাখানা মুসলিম স্থাপত্য শিল্পের এক উজ্জ্বল নিদর্শন, যা ১৬০০ খৃস্টাব্দের দিকে এ মসজিদটি নির্মিত। বেবদু রাজার দীঘি সহ রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান সহ রয়েছে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব দর্শনীয় স্হান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে কয়েকটি রাস্তা রয়েছে যার অধিকাংশই কাঁচা ৫/৭ কিলোমিটার রাস্তার জন্য কয়েক হাজার মানুষের দূর্ভোগ।
সরেজমিনে মজিতপুর গ্রামের শেষে এবং এগারসিন্দুর গ্রামের শুরুতেই (হাসেন মাস্টারের বাড়ি সংলগ্ন) রাস্তাতে সামান্য বৃষ্টির কারনেই একদম অচলাবস্থা হয়ে যায়। লাল মাটি (এঁটেল মাটি) হওয়ার কারনে অল্প বৃষ্টিতে আরো বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় আশে পাশের কয়েক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিবাহিত হলেও এগারসিন্দুর গ্রামের রাস্তাগুলি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। গ্রামের ভিতরের দিকে ভাল কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা এই ছোট কাদা মাটির রাস্তাগুলি দিয়ে খুবই কষ্ট করে যাতায়াত করে। এগারসিন্দুর আলিম মাদ্রাসা ও হাজী জাফরআলী কলেজ এবং আসিয়া-বারি আইডিয়াল স্কুল দূরে হওয়ায় প্রত্যহিক শিক্ষা গ্রহন করা ছাত্র-ছাত্রীদের খুব কষ্ট হয়। কাচা কর্দমাক্ত রাস্তায় প্রায় পড়ে গিয়ে বই খাতা কাপড়-চুপড় নষ্ট করে বাড়ি ফিরে আসে।

এগারসিন্দুর গ্রামের আসাদ, সোহানুর রহমান সোহাগ বলেন, সরকারিভাবে আমাদের এলকার রাস্তাগুলি করা একান্ত জরুরি এবং বর্ষাকালে এলাকার নারী পুরুষ বৃদ্ধ অসুস্থ হলেও কোলে করে বা উচু খাটিয়া করে পাশ্বের রাস্তা পর্যন্ত আনতে হয়। আমরা এ দূর্ভোগ থেকে বাচঁতে চাই। বছরে প্রায় সময়েই রাস্তাটি এতো খারাপ থাকে কোন ভ্যান রিক্সা তো দুরের কথা সাইকেল পর্যন্ত যাতায়াত করা সম্ভব না।
এগারসিন্দুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মতিউর রহমান সরকার বলেন, এগারসিন্দুর ইউনিয়নের লাল মাটি (এঁটেল মাটি) হওয়ার কারনে বর্ষাকালে সকল কাঁচা রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। আর হাসেন মাস্টারের বাড়ির সংলগ্ন রাস্তায় একটি ব্রিজ করে দিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস এবং রাস্তাটি পাকা করণের জন্য কথা বলেছি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে।
বার্তা বাজার/এম.সি