সময়টা সকাল ৯টা ,পৌরসভার পাশেই কুড়িগ্রামের পুরাতন জিয়া বাজার । কেউ এসেছে সবজি কিনতে,কেউবা চাল ডালের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কিনতে । সকলের মুখে মাস্ক,সকলেই সচেতন । কিন্তু সকলের মাঝে বিরাজ করছে আতংক – উৎকন্ঠা । এই বুঝি পুলিশ এলো লাঠিচার্জ করত। বাজারের ২/৩ টি দোকানে সামাজিক দুরত্ব মানা হলেও,অধিকাংশ দোকানে মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্ব । আবার অনেক দোকানে মূল্য তালিকা থাকলেও,তাতে লেখা নেই দরদাম । কাঁচা বাজারের সবজি বাদে প্রতিটি খাদ্যসামগ্রীতে ১০/১৫ টাকা করে একটু বেশি । অর্থ্যাৎ. দূৃর্যোগেও স্বস্তি নেই বাজার।
এতো গেলো বাজারের কথা,এবার বলবো,পৌরসভার পাড়া-মহল্লার কথা । কুদ্দুস মিয়া(ছদ্দনাম) করেন ছোট্ট একটি পানের দোকান,জিয়া বাজারের ঠিক পিছনে ,২ সপ্তাহ আগে পুঁজি শেষ হওয়ায় ,দোকানের ঝাপ(দরজা) বন্ধ করে বিক্রি করছেন পান-সিগারেট । সহায়তা বলতে পৌরসভার কাউন্সিলর থেকে ১০ কেজি চাল,কিছু আলু পেয়েছেন,২ দিন হলো । পেটের দায়ে ,অনেকটা চুরি করেই খোলা রেখেছেন তার ছোট্ট পানের দোকান । পৌরসভার ২ নং ওর্য়াড পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়া ও মোল্লাপাড়া সেখানকার দোকানগুলোও চলছে চুরি করে,পেটের দায়ে,পরিবারের খাদ্যের জোগান দিতে এভাবেই চলছে অর্ধেক ঝাপ ফেলে বন্ধ করে দোকানদারি । জলিল বিড়ি মোড়,মৎস্য চত্বর,সুজামের মোড় ,রিভার ভিউ মোড়,পুরাতন রেল স্টেশন এসব পাড়াতেও দেখা যায় চায়ের দোকান আর মুদি দোকান খোলা রাখতে,তবে বাইরে থেকে বন্ধ থাকলেও ভিতরে দিব্যি চলছে দোকানদারি । দুপুর ২টার আগে অনেকটা নিজের দাপটে ক্ষুদ্র আয়ের ব্যবসায়ীরা দোকান দারী করেন,আর পুলিশ এলে গুটিয়ে পালিয়ে যান,অনেকটা চোর-পুলিশ খেলার মতো ।

আর দুপুর ২টার পর অনোকটা পৌরসভি ফাঁকা হলেও,কয়েকটি মোড়ে আবার দেখা যায় ৩/৪ জনের জটলা,সকলের উদেশ্য পুলিশের গাড়ি দেখা,আর গাড়ি দেখলেই দৌড়ে গলিতে লুকিয়ে পড়া । পৌরসভার ঈদগাহ মাঠে,মজিদা কলেজ মাঠে আর রিভার ভিউ স্কুল মাঠে চলে ক্রিকেট,লুডু আর গল্পের আসর । মিস্ত্রি পাড়ার পৌরসভার পিছনের পুকুরেও বিকেল হলে দেখা যায়,এলাকার কিশোরদের গল্পগুজব । অবশ্য পুলিশ এসব জায়গায় পালা করে টহল দিলেও,তারা চলে যাবার পর আবার আগের অবস্থা হয় ।
ধরলা নদী পার হয়ে,নিজেদের দ্রব্যসামগ্রী কিনতে গ্রামের যেসব মানুষ পৌরসভার ভিতরে প্রবেশ করছেন,সকলে ভয়ে আর আতংকে প্রবেশ করছেন । আর কুড়িগ্রাম পৌরসভাটি জেলা শহরের মুল কেন্দ্র হওয়ার কারণে জটলা লেগেই থাকে । তবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে পুলিশ – প্রশাসন । তাদের সরকারি নির্দেশ মানাতে তৎপর দেখা যাচ্ছে । মানুষকে করোনার বিষয়ে সর্তক করতে পুলিশকে সব ধরনের ইতিবাচক কাজে দেখা যাচ্ছে,ইতিমধ্যে পৌরসভার অনেক সচেতন মানুষ এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই নিয়েছেন । এবার জানাবো আমার নিজ এলাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কথা ।
আমির প্রতিবেশী এলাকা কালীবাড়ি,সেখানে ঔষুধ,কাপড়,মুদি,কনফেকশনারী,হোটেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে । তবে দুপুর ২টার পর ঔষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান থাকে বন্ধ । আর আমার বাড়ির সামনের নিজ এলাকা হলো পৌরসভার ৩ নং ওর্য়াড,পুরাতন থানা পাড়া ,এলাকায় হাতে-গোনা ৮/১০ টি দোকান ,২/৩ টা পানের দোকান ও সারের দোকান খোলা থাকে দুপুর ২টা পর্যন্ত,বাকিগুলো আজ ১৫ দিন থেকে পুরোপুরি বন্ধ । তবে আমার এলাকায় দুপুর ২টার পর কমেনি তেমন একটা আড্ডা,জটলা না হলেও,বিক্ষিপ্তভাবে থেকে চলে গল্পের আসর, আর সন্ধার আগে আগে ৩/৪ জন আছেন,তারা বসান মোবাইলে লুডু খেলার জুয়ার আসর । কয়েকবার পুলিশ ধাওয়া দিলেও এরা তা মোটেও কর্নপাত করে না ।তবে এতকিছুর মধ্যেও সচেতন রয়েছে পৌরবাসী,প্রতিটি পাড়ায় বসানো হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা । যারা প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন তাদের হাতে দেখা যায় গ্লোভস আর মুখে মাস্ক । সব মিলিয়ে করোনা কে মোকাবেলা করতে অন্যান্য শহরের মতো কুড়িগ্রাম পৌরবাসীও যথেস্ট সচেতন ।
বার্তা বাজার/এম.সি