বিশ্বব্যাপী মহামারির মধ্যেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে বিবাদ অব্যাহত আমেরিকার। নিজের দেশে করোনার মৃত্যুমিছিল স্বত্বেও মাথা নোয়াতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
করোনা রোখার রণকৌশল ঠিক করতে শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন দশের রাষ্ট্রনায়ককে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বৈঠকে একাধিক বিশ্ববন্দিত নেতা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অংশ নিলেও, হাজির ছিলেন না আমেরিকার কোনও প্রতিনিধি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) করোনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিকে নিয়ে একটি বৈঠক ডাকে। তাতে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রসিডেন্ট, জার্মান চ্যান্সেলার, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের মতো রাষ্ট্রনায়কেরা। সেই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত সব দেশের প্রতিনিধিরা। করোনা ভাইরাস যাতে আর ছড়িয়ে না পড়তে পারে, তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি। আরও বেশি টেস্ট, আইসোলেশনের ব্যবস্থা, চিকিৎসার উন্নত ব্যবস্থার মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। এদিনের বৈঠকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল টেডরোজ আধানাম বলেন, ‘এই সমস্যা আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সমাধান করতে হবে। সহানুভূতির সঙ্গে পদক্ষেপ করতে হবে।’
তবে, এদিনের বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমেরিকার অনুপস্থিতি। বৈঠকে কোনও প্রতিনিধি না পাঠিয়ে ট্রাম্প (Donald Trump) বুঝিয়ে দিলেন অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক শুধরোবেন না তিনি। WHO-কে ফের অনুদান দেওয়ারও কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আমেরিকার মধ্যে বহুদিন থেকেই দ্বন্দ্ব চলছিল। ইতিমধ্যেই চিনের তাবেদারি করার অভিযোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগ WHO করোনা সম্পর্কে আমেরিকাকে ভুল পরামর্শ দিয়েছিল। চিন যেভাবে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা আড়াল করেছে, তাতেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হাত আছে বলে মত আমেরিকার। যদিও এসব বিবাদ ভুলে আমেরিকাকে নিজেদের সাহায্য বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেছে WHO। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করছেন না
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি