বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে দিশেহারা মানুষগুলোর মধ্যে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা পড়েছেন মহাবিপাকে। তারা না খেয়ে থাকলেও কারও কাছে হাত পাততে পারছেন না। ফলে হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছালেও মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছাচ্ছে না।
এমন বাস্তবতায় গ্রহীতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছিয়ে দিচ্ছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগ নেতা মো. আশিকুর রহমান (আশিক)।
জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কয়েক’শ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের বাড়িতে বাড়িতে এসকল খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন যুবলীগ নেতা আশিক। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি এ কার্যক্রম শুরু করেন। তালিকা অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী পৌছে দিলেও ঐ সময় ছবি তোলা বা তাদের নাম প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ থাকায় সাহায্য গ্রহনকারীদের পরিচয় গোপন করা হয়েছে।
যুবলীগ নেতা আশিক জানান, দু’দিন ধরে খুঁজে খুঁজে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তাদেরকেই দেয়া হচ্ছে যাদের পেটে ক্ষুধা কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারে না। কোথাও হাত বাড়াতে পারে না আত্মসম্মানে। এ যেন মাঝ নদীতে পড়ে হাবুডুবু খাওয়া অর্থাৎ না বাঁচা না মরা। এমন সব পরিস্থিতির মানুষদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইচ্ছেমতো ব্যাপক পরিসরে সহযোগিতা করা সম্ভব হচ্ছে না অর্থ সংকটের জন্য। যতটুকু করেছি তাও ধার করা টাকায়। তবুও সমাজের কারো যদি কিছুটা উপকার হয়, একারণেই করেছি।
গ্রহীতার পরিচয় গোপন রেখে খাদ্য বিতরণ সম্পর্কে আশিক বলেন, ‘ওরা কেউ ফকির মিসকিন নয়, ওরা পরিস্থিতির স্বীকার। কাউকে সাহায্য করা মানে এই নয় তার মানসম্মান নিয়ে খেলা করবো। আমি চাই না ফেসবুকে হিরো হওয়ার জন্য কাউকে সামাজিক লজ্জায় ফেলতে। প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যক্তি সত্তা আছে, আছে আত্মসম্মান বোধ। সবাই নিজের পরিবারে হিরো।’
তিনি আরো বলেন, অমি মনে করি এই মুহূর্তে যাদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে অনুগ্রহপূর্বক তাদের ছবি কেউ তুলবেন না। করোনা যুদ্ধে জয়ের পর আমরা সবাই না হয় একসঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলবো। সকলের প্রতি আমার এই আহ্বান।
এবিষয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে. এম আহাদুল হাসান জানান, ‘আশিক সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। করোনায় কর্মহীন মানুষের পাশে থাকার জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে প্রতিটি সচ্ছল ব্যক্তির উচিৎ এভাবে এগিয়ে আসা।’
বার্তা বাজার/এম.সি