সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত শুনে পালিয়ে যায় এক নারী। এর মধ্যেই নামের ভুলে অন্য এক নারীকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ওই নারীকে বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা বলে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের উপপরিচালক হিমাংশু লাল রায়।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার পালিয়ে যাওয়া করোনায় আক্রান্ত ওই নারীর সন্ধান মেলেনি। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের উপপরিচালক হিমাংশু লাল রায় জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুরে পুলিশ যাকে ধরে আইসোলেশনে পাঠিয়েছিল, তিনি হাসপাতাল থেকে পালানো নারী ছিলেন না। একই এলাকার ও একই নামের হওয়ায় পুলিশ ভুল করে ওই নারীকে ধরে এনেছিল। তিনি দুদিন আগে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি যান।
জানতে চাইলে সিলেট বিমানবন্দর থানার অফিচাস ইনচার্জ (ওসি) এস এম শাহাদাত হোসেন জানান, ‘হাসপাতাল থেকে আমাদের তথ্য দেওয়া হয়েছিল। খাদিমনগর এলাকার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক নারী হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছেন। তার যে নাম বলা হয়েছিল, সেই নামের একজনকে আটক করে আইসোলেশনের জন্য শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওই নারী আমাদের ছাড়পত্র দেখিয়েছিলেন। আমরা সেটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। রাতে বলা হয়, ওই নারী হাসপাতাল থেকে পালানো সেই নারী নন। আমরা এখন পালিয়ে যাওয়া নারীর খোঁজ করছি। মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, খাদিমনগর এলাকার একই নামের দুজন নারী হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে দুজনের বাচ্চাই জন্মের পর মারা যায়। এর মধ্যে একজন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে যান। অন্যজনের করোনার উপসর্গ থাকায় হাসপাতালে আলাদাভাবে রাখা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারী করোনায় আক্রান্ত শুনে পালিয়ে যান।
সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানান, ‘পুলিশ হাসপাতাল থেকে পালানো রোগীর সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে জানিয়েছিল। আমরা তাকে প্রকৃত রোগী মনে করে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসি। কিন্তু ওই নারীর উপসর্গগুলো করোনাভাইরাসের রোগীর উপসর্গের সঙ্গে মিলছিল না।
বার্তাবাজার/এমকে