করোনাভাইরাসের কারণে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। যদিও কিছু পাওয়া যায় প্রতিদিনের ১০ ঘন্টার পারিশ্রমিক দিতে হয় এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা। এতে বোরো ধান ঘরে তুলতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রায় লক্ষাধিক কৃষক। তাই কটিয়াদীতে ডাল ভাত খেয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের কাহেতের টেকি গ্রামের মৃত মোঃ হাছেন আলীর স্ত্রী নূরজাহানের ধান কেটে দিচ্ছেন সদ্য সাবেক পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১১ টার দিকে সরেজমিন কটিয়াদীর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের কাহেতের টেকি গ্রামের বিধবা নূরজাহানের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, কটিয়াদী পৌর ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি সম্রাট আলমগীর হোসেন এর নেতৃত্বে ১৫/২০ জন ছাত্রলীগের কর্মী কাদা-পানি মাড়িয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন।
নূরজাহান বেগম জানান, ধান কাটা নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। শ্রমিক সংকটে কিভাবে ধান ঘরে তুলব শুনেছি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ধান কেটে দিচ্ছে। গতরাতে আলমগীর কে ফোন দিলে সকাল ৯ টায় ১০/২০ জন এসেই ধান কাটা শুরু করেন। দুপুর দুইটা পর্যস্ত ধান কেটে বাড়িতে দিয়ে যায়। আগে কখনও এভাবে কাউকে কাজ করতে দেখিনি।আমি খুবই আনন্দিত দোয়া করি আল্লাহ ওদের মঙ্গল করুন।
কটিয়াদী পৌর ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি সম্রাট আলমগীর হোসেন বার্তাবাজার কে বলেন, আমাদের প্রানের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক মহুদয় কৃষকের ধান কেটে দিয়েছেন তাই দেখে অনুপ্রেরিত হই তারপর কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লা সুমন এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ওমান খান এর নির্দেশনায় স্বেচ্ছাশ্রমে আমি এবং পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্নসাধারণ সম্পাদক কাওছার আহমেদ, ছাত্রনেতা আজিম, মোবারক হোসেন, আনার হোসেন, বকুল হোসেন, রাসেল আহমেদ, মিজানুর রহমান, শাকিল, সালমান, জুবায়েল, বাবু, সেলিম,রিদয় সহ ১৫/২০ জন মিলে কৃষকদের ধান কেটে মারাইয়ের যায়গায় নিয়ে দিচ্ছি।স্বেচ্ছাশ্রমে দরিদ্র চাষীদের ধান কেটে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এটা চলমান থাকবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল অসহায় চাষীর ধান কেটে দিব।
বার্তা বাজার/এম.সি