বিশেষ বিবেচনায় ২০১৫ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে ফাঁসি থেকে নিস্তার পেয়েছিলেন ফরিদপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আসলাম ফকির। ২০১৭ সালে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বীরদর্পে আবার তার রাজত্বে ফিরে এসেছিলেন। এর ঠিক ৩ বছর পর আবারও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হলেন তিনি।
ভাঙ্গা উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের শহীদ মাতুব্বর নামের একজনকে হত্যা করার সরাসরি অভিযোগ এসেছে আসলাম ফকিরের নামে। ৫৪ জনের নামে করা এই মামলায় প্রধান আসামীও তিনি হয়েছেন।
জানা যায়, ২০০৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম সাহেদ আলী ওরফে সাহেব আলী মিয়াকে হত্যার ঘটনায় ফাঁসির দণ্ড হয়েছিল আসলাম ফকিরের। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্থানীয় সাংসদ কাজী জাফুরুল্লাহর তদবিরে ফাঁসি থেকে নিস্তার পেয়ে কারাগার থেকেও বের হয়েছিলেন আসলাম ফকির।
গত ২১ এপ্রিল রাতে লক্ষীপুর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও আসলাম ফকির সংঘর্ষে জড়ান একই এলাকার শাজাহান মাতুব্বরের সমর্থকদের সাথে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আসলাম ফকিরের বাহিনীর লোকজন শাহজাহান মাতুব্বরের লোক শহীদকে কুপিয়ে জখম করলে ফরিদপুর মেডিকেলে তার মৃত্যু হয়। নিহত শহীদ স্থানীয় সাংসদ নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক ছিলেন।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি শফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসলাম ফকিরের নেতৃত্বে এত বড় সংঘর্ষ হয়। রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করছেন। তিনি থানা-পুলিশ কাউকে পরোয়া করেন না। তার বিরুদ্ধে আগেও থানায় অভিযোগ এসেছে। এখন পর্যন্ত তিনি পলাতক। তাকে ধরতে অভিযান অব্যহত আছে।