চারিদিকে করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) আতঙ্ক। অনেকটা লক ডাউন অবস্থা। এর মধ্যেই কেউ মানছেন, কেউবা পেটের দায়ে রাস্তায় নেমেছেন- একবেলা খাবারের সন্ধানে। করোনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন উত্তাল।
সবাই বিভিন্ন রকম পোস্ট করছে। আজ একটি পোস্ট দেখে চোখ আটকে গেল। পোস্টটি করেছেন পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো: মিজানুর রহমান। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটি বার্তাবাজার পাঠকেদের জন্যে হবুহু তুলে ধরা হল-
#আলো আসছে..
#আমরাই জিতবো।
#বেঁচে থাক এই আস্থা
আর ভালোবাসা।
শফিকুল দম্পতির আদরের ছেলে আকিদুল ইসলাম আয়ান। বয়স ০৮ বছর। রাজধানীর প্রিমিয়ার স্কুল ঢাকার দ্বিতীয় শ্রেণিরছাত্র। করোনা নামক অদৃশ্য ভাইরাসের করাল থাবায় সারা বিশ্বের ন্যায় স্থবির বাংলাদেশে রাজধানীতে বসবাসকারী খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টের কথা শিশু আয়ান বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের বদৌলতে জেনে গেছে। যা শিশুর মনে নাড়া দিয়েছে।
এদিকেতার বাবা-মা নিজেদের সাধ্যমতো অসহায় মানুষদের বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা করে যাচ্ছে, যা শিশু আয়ানের মনে বিশেষ দাগ কাটছে। আয়ান তার বাবাকে বলে, ‘বাবা আমি আমার ভল্টের জমানো টাকাগুলো অসহায় মানুষদের দিতে চাই। আর এগুলো পুলিশ আঙ্কেলদের মাধ্যমে দিতে চাই।
কারন পুলিশ আঙ্কেলরা মানুষের বাড়ি-বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। ছেলের একথা শুনে শফিকুল সাহেব মনে মনে খুব খুশি হলেও আবার ভাবেন ছেলেটা তার ‘ইলেকট্রিক ভল্ট’ টাকে কতো ভালোবাসে। গত দুই বছর যাবৎ কি পরম মায়ায় সেটিকে আঁকড়ে রেখেছে।
যে দিন প্রথম এই ভল্টটা হাতে পায় কি যে আনন্দ তার। সারারাত বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়েছিল। তার কতো পরিকল্পনা। যখনই টাকা জমানোর সুযোগ পেত, এনে ভল্টে জমা করত। ঈদের সালামি, টিফিনের টাকা, আত্মীয় স্বজনের নিকট হতে প্রাপ্ত উপহার যা পায়, সব ভল্টে জমা করে, আর নতুন নতুন পরিকল্পনা আটে।
ছেলে আজ সব পরিকল্পনা ছেড়ে তার এই ছোট্টো জীবনে সকল সঞ্চয় মানুষের কল্যানে দিয়ে দিতে চায়। এই সব ভাবতে ভাবতে শফিক সাহেব স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন। তার স্মৃতি পটে ভেসে উঠলো সেইদিনটি, যেদিন আয়ান পৃথিবীতে এসেছিলো। তাকে প্রথম বুকে জড়িয়ে কতো আদর করেছিলো।
কি যে সে অনূভুতি মনের আনন্দে নিজের অজান্তেই এক ফোঁটা চোখের জল টপ করে পড়েছিলো চিবুকে। আজ সেই ছেলের কথা শুনে আবারো সেই চোখের জল ঝরে পড়লো। অনেক দিন পরে সেই সুখানুভূতি হলো হৃদয় পটে, ভেসে উঠলো সে সুখস্মৃতি। হঠাৎ আয়ানের মায়ের কথায় শফিকুল সাহেব বাস্তবে ফিরে আসলেন। এই শুনছো কি ভাবছো ওসি সাহেব কে একবার ফোন করোনা।
আয়ানের মায়ের কথামতো শফিকুল সাহেব ওসি মিরপুরকে ফোন করে আয়ানে রইচ্ছার কথা জানানোর পর আজকে আয়ান ও তার পরিবার মিরপুর মডেল থানায় এসে আয়ানের সেই ইলেকট্রিক ভল্ট টি খুলে সমস্ত টাকা ওসি মিরপুর স্যার এর হাতে তুলে দিলেন মানবতার কল্যানে।
এই ছোট্ট আয়ানের জমানো টাকা থেকে বাজার থেকে খাদ্য সামগ্রী কিনে ১২ টি অভুক্ত পরিবারের দরজায় পৌছে দেয়া হলো। বেঁচে থাক বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলার জনগনের প্রতি আয়ানদের এই আস্থা ও ভালোবাসা। এই আয়ানদের জন্যই বারবার জিতে যায় মানবতা।
আমরা পাই শক্তি ও সাহস। হয়তো আয়ানদের জন্যই আমরা ঘরে নিজের ছেলে সন্তান ফেলে রাস্তায় থাকার সাহস পাই। আসুন না আয়ানদের জন্য সাম্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে যাই। আসুন না, দয়া করে আর কয়টা দিন একটু কষ্ট হলেও আয়ানদের জন্য ঘরে থাকি।
কেএ/বার্তাবাজার