সারা বাংলাদেশে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের আশপাশে থাকা অভুক্ত কুকুর গুলো কি খাচ্ছে? তারা তো বোবা কথা বলতে পারে না, তাহলে কিভাবে তারা প্রকাশ করছে তাদের অসহায়ত্বের অভিব্যক্তি? কেমন ভাবে কাটছে তাদের জীবন? মানুষ তো তাদের খবার যেকোনো ভাবে যোগাড় করে নেবে।
কিন্তু অসহায় এই কুকুর গুলো কিভাবে তাদের খাবার জোগাড় করছে ? এমনই মানবিক চিন্তার কথা বলছিল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দুই শিক্ষার্থী। আর এমন মানবিক চিন্তা থেকেই তাঁরা গত তিন দিন ধরে সাতক্ষীরা শহরের নারকেলতলা মোড়, জজকোর্ট সামনে, খুলনারোড মোড়, নিউমার্কেট চত্বর, সংগীতা মোড় , হাটের মোড় সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে কুকুরদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।
এই দুই শিক্ষার্থীর একজন হলেন, আরিফ হোসেন। সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মধ্য কাটিয়ার দরিদ্র বাবার এক মাত্র সন্তান ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার্থী।
আরেকজন আসিফ হোসেন, কলারোয়া সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে সদ্য অনার্স পাশ করা শিক্ষার্থী। এমন সুন্দর উদ্যোগের কারনে তাদের সঙ্গে যোগ দেন সাতক্ষীরা সদরের নলকুড়া গ্রামের মরহুম শেখ আব্দুল মালেক এর বড় ছেলে ও ঘোনা ইউনিয়নের বহুমুখী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ( ইংরেজি) শেখ মাসুদুল হাসান।
তাঁরা প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭ঃ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ১০০ কুকুরের খাবার খেতে দিচ্ছে। আসিফ, আরিফ দের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অনেকেই আর্থিক ভাবে সহযোগিতা দিতে এগিয়ে এসেছেন। যেসব ব্যক্তিরা তাদের কাজে সাহায্য সহযোগিতা করেছে তাদের ভিতরে আব্দুল্লাহ আল আলম ৫০০ টাকা, শর্মিতা দেবনাথ ৪০০ টাকা। আরো নাম না জানা ২ জন ১৬০ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছে তাদের এই কাজে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে অধিকাংশ খাবার হোটেল ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আর তাই শহরের উপরে থাকা বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। তবে আশার কথা হল,জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে স্বল্প পরিসরে কিছু ইফতার সামগ্রী বিক্রির দোকান শর্তে সাপেক্ষে খোলার ইজ্ঞিত দেয়া হয়েছে।
আরিফ ও আসিফ বলেন, দেশের এই পরিস্থিতিতে মানুষ মানুষের দিকে সহমর্মিতার হাত বাড়াচ্ছে কিন্তু রাস্তার ধারে এই বোবা প্রানীদের পাশে কেউ এগিয়ে আসে না। আর তাই আমরা নিজ উদ্যোগে এই বোবা প্রাণিদের একবেলা আহার জোগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
পরিচিত এক স্যারের কাছে কথা গুলো বলছিলাম তিনি আমাদের সামান্য সাহায্য করছিলো আর সোখান থেকে আমরা নির্দিষ্ট লক্ষে পৌছাতে সক্ষম হয়েছি। বিগত ৩ দিনে সাতক্ষীরা সদরের প্রায় ১০০ টার মত কুকুরদের একবেলা আহার দিয়েছি। আজও দিবো ইনশাআল্লাহ।
আরিফ ও আসিফ আরও বলেন, এই কার্যক্রমটা আমরা চালু রাখতে চাই। এজন্য সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।
কেএ/বার্তাবাজার