করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য নিয়োজিত রাজধানীর দু’টি বিশেষায়িত হাসপাতাল বিহারি ক্যাম্পের অধিবাসীদেরা চিকিৎসা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) এমন অভিযোগ করেছেন একজন এক্টিভিস্ট।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এসব বিহারিরা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে তারা যে বৈষম্যের শিকার এই মহামারি তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে বস্তিতে বাস করেন প্রায় ৩২ হাজার বিহারি। মানবাধিকার আইনজীবী খালিদ হোসেন এবং পুলিশ বলছে, বস্তিটির দুই বাসিন্দা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।
খালিদ অভিযোগ করছেন, ওই দুই রোগীর অবস্থা “আশঙ্কাজনক নয়” বলে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য বিশেষায়িত একটি সরকারি হাসপাতাল।
তিনি আরও বলেন, এখন আরেকটি স্থানীয় হাসপাতালের কর্মীরাও বিহারি ক্যাম্প থেকে যাওয়া যে কোনো রোগীকেই ফিরিয়ে দিচ্ছেন সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে।
উল্লেখ্য, সারাদেশে ১১৬টি ক্যাম্প ও বস্তিতে প্রায় ৫ লাখ বিহারির বসবাস।
বিহারি কমিউনিটির নেতা সাদাকাত খান ফক্কু জানান, অন্য একটি ক্যাম্পের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক বাসিন্দাকেও স্থানীয় একটি হাসপাতাল ফিরিয়ে দিয়েছে। এখন সে পরিবারের সঙ্গে তার এক কক্ষের বাসায় সেল্ফ-কোয়ারেন্টিনে আছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই বার্তা সংস্থা এএফপি’র সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রফেসর এ ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ঢাকা শহরে বস্তিবাসী মানুষের সংখ্যা ১ কোটি। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত বেড নেই।”
“সামান্য লক্ষণ থাকলে বাড়িতেই চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ,” যোগ করেন তিনি।
তবে অ্যাডভোকেট খালিদ জানান, জেনেভা ক্যাম্পের আক্রান্ত দুইজনসহ ২০টি পরিবারকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। কিন্তু এমন একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব না।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে বস্তিটিতে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
“তাদের কাউকেই পরীক্ষা করা হয়নি, তাই আমরা জানি না যে তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল কি না,” বলেন খালিদ।
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন
বার্তাবাজার/কে.জে.পি