করোনা মহামারির কারনে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে অনেকদিন হয়ে গেলো। কিন্তু বন্ধের মাঝেই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বেতন আদায়ে তৎপর ঢাকার সাউথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ। করোনার কারণে অনেকে অফিসে গিয়ে বেতন পরিশধ করতে পারবে না বলে বিকাশ, রকেট ছাড়াও সব ধরণের মোবাইল ব্যাংকিং সেব চালু করেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
তবে সারা পৃথিবীর মানুষের এমন বিপদের মাঝেও তাদের টাকা পয়সা আদায়ের ‘কাবুলিওয়ালা’ পন্থার প্রতি অনেক অভভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপ্যাল হামিদা আলী জানান, বেতন না নিয়ে তাদের উপায় নেই। কারণ প্রতিশঠানের কোনো শিক্ষকই সরকারের কাছ থেকে কোনো সুবিধা পায়না।
রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরা, বনানী, বারিধারা, মিরপুর ও মালিবাগে অবস্থিত কয়েকটি শাখায় মোট ১২ হাজারেরও বেশী ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে। ৩ শতাধিক শিক্ষক তাদেরকে পাঠদান করে থাকে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, এই মহামারীর মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি বেতন নেওয়া বন্ধ করেনি। প্রতি মাসে টাকা আদায়ের জন্য বিকাশের মাধ্যমে বেতন পরিশোধের সিস্টেম চালু করে তা জানিয়ে এসএমএস করেছে।
অপর এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে এপ্রিল মাসের টিউশন ফি পরিশোধের সক্ষমতা না থাকলেও তা পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই বেতনটা তারা পরে নিলেও পারত। কিন্তু ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বেতন পরিশোধ না করলে জরিমানা গুণতে হবে।”
এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হামিদা আলী দাবী করেন, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণার পর থেকে আমাদের সবগুলো শাখার শিক্ষকরা অনলাইনে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের কোনো শিক্ষক সরকার থেকে একটি টাকাও পান না। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস। এ থেকেই শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয়, অন্যান্য খরচ যোগান দেওয়া হয়।”
তবে এক অভিভাবক দাবী করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বক্তব্য সঠিক নয়। । অনলাইনে কোনো ক্লাস নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মিডটার্মের একটি সিলেবাস অনলাইনের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে পাঠানো হয়েছে মাত্র।”
এর সত্যতা পাওয়া যায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষকের দেয়া বক্তব্যে। তিনি জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন জানিয়ে ওই শিক্ষক বলেন, “আমার জানামতে পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির কিছু ক্লাস অনলাইনের মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে।
বার্তাবাজার/এসজে