এন-৯৫ মাস্ক যখন সোনার হরিণ, অন্যতম প্রধান এই সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যখন চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বরগুনা জেলার ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা, ঠিক তখন নিজ উদ্যোগে বরগুনা জেলার সকল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য এন-৯৫ মাস্ক পাঠালেন আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান শিহাব।
আজ বুধবার সকালে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর কাছে এসব মাস্ক হস্তান্তর করেন মশিউর রহমান শিহাবের মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠান স্পন্দন পাওয়ার এন্ড এনার্জি এর একজন প্রকৌশলী হাসিবুল হাসান।
এর আগেও গত ১৭ এপ্রিল বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এন-৯৫ এবং এন-৯৫ সমমানের কেএন-৯৫ সবমিলিয়ে ১০০টি মাস্ক পাঠিয়েছিলেন মশিউর রহমান শিহাব।
এদিকে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে বরগুনায় এ পর্যন্ত ১৭ জন করোনাক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা চলছে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। এছাড়া আরও প্রায় ৩০জন করোনা উপসর্গের রোগী রয়েছে এ জেলায়। আর এ রোগে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দুইজনের।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র টেকনোলজিস্ট সুভাষ দত্ত বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এখনও পর্যন্ত এন-৯৫ মাস্ক পাইনি আমরা। তারপরেও জীবনের ঝুকি নিয়ে দুইটি সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক পরে তারপর করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে যাচ্ছিলাম আমরা। অন্যদিকে একইভাবে ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছিলেন আমাদের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা। তিনি মশিউর রহমান শিহাবকে ধন্যবাদ জানান।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মশিউর রহমান শিহাব বার্তা বাজার’কে বলেন, এই মুহুর্তে একজন ডাক্তার বা স্বাস্থ্যর্মীর জীবন রক্ষা করা মানে হচ্ছে হাজার মানুষকে বাঁচানোর সমান।
তিনি বলেন, যেদিন থেকে তিনি শুনেছেন বরগুনার হাসপাতালগুলোতে এন-৯৫ মাস্কের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেদিন থেকে তিনি এন-৯৫ মাস্ক সংগ্রহের কাজে লেগে পড়েন।
এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বার্তা বাজার’কে বলেন, এভাবে দেশের প্রয়োজনে স্বচ্ছল সকল ব্যক্তিবর্গ এগিয়ে এলে খুব শিঘ্রই বাংলাদেশ চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।
কেএ/বার্তাবাজার