সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও থাবা বসিয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগের মর্গে জমেছে মরদেহের স্তুপ।
ঢামেকে মৃত্যু নিত্যদিনের ঘটনা। তবুও করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত দু্ইদিনে জরুরি বিভাগের ওয়ার্ডসহ অন্যান্য ওয়ার্ডে মারা গেছে ১৫ রোগী। তাদের করোনা ভাইরাস সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও নিশ্চিত নয়, তবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এছাড়াও আরও ৫টি বেওয়ারিশ মৃতদেহ আছে এই স্তুপে। আর পুলিশ কেসের অন্তর্ভূক্ত কয়েকটি মরদেহ মর্গে পড়ে আছে।
তবে করোনা সন্দেহ করে মরদেহগুলো হস্তান্তর করছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বজনরাও করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মরদেহ গ্রহণ করছে না। করোনার ফলাফল নিশ্চিত হয়ে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ।
ঢামেকের মর্গের ওয়ার্ড মাস্টার আব্দুুল গফুর বলেন, পরশু দিন থেকে হতকাল পর্যন্ত ১৫ টি মরদেহ জমা হয়েছে। এছাড়া পুরাতন কিছু মরদেহ আছে। আমরা করোনা পরীক্ষা করে করে মরদেহ হস্তান্তর করছি।
তিনি আরও জানান, অনেক স্বজন করোনা পজিটিভ হওয়াতে মরদেহ নিচ্ছে না। যেসব মরদেহ স্বজনরা নিচ্ছে না সেগুলো সরকারিভাবে দাফন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অপরদিকে পুরো ঢামেক জুড়েই করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যান্য রোগীর স্বজন ও ঢামেকের কিছু স্টাফদের ধারণা করোনা আক্রান্ত হয়েই এসব রোগী মারা গেছেন। তাই সুরক্ষা ছাড়া মর্গের আশপাশ দিয়ে কেউ যাওয়া আসা করছে না। মৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছেন।
স্বজনরা জানিয়েছেন, এলাকা থেকে তাদেরকে জানানো হয়েছে মরদেহ নিয়ে যেনো তারা এলাকায় প্রবেশ না করে। তাই তারা মরদেহ নিয়ে রীতিমত বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মরদেহ দিয়ে চলে যাচ্ছেন। আবার কিছু মরদেহের স্বজনদের খোঁজ না মেলায় সেগুলো বেওয়ারিশ হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস