ধর্ষণের অভিযোগে ছেলের বাড়িতে কিশোরীর অবস্থানকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য মাতব্বররা শত শত মানুষ জমায়েত করেছে। যার নাম দিয়েছে সালিশ। অথচ দুই ঘন্টাব্যাপী আলোচনা ও যুক্তিতর্কের পরেও তারা কোনো সমাধান দিতে পারেননি। এ নিয়ে এলাকাজুড়ে এখন চলছে তোলপাড়। বুধবার (২২ এপ্রিল) ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় এই ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা যায়, উপজেলার জুমগাঁও ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে আবু তালেব কিছুদিন আগে একই গ্রামের ১২ বছরের এক কিশোরীকে তাদের বাড়ির টয়লেটে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক মহিলা এই বিষয়ে সাক্ষী দিতে চাইলে ছেলে পক্ষ তার দিকে তেড়ে এসে হুমকি ধামকি দিয়ে সাক্ষী দিতে নিষেধ করে। পরে ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে ওই কিশোরী ছেলের বাড়িতে অবস্থান নেয়।
ঘটনার পরদিন সকালে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দেয়ার লক্ষ্যে সালিশে বসেন গ্রাম্য মাতব্বররা। ওই দিন সকালে বিচার সালিশের নামে শত শত লোক জড়ো হলে মানা হয়নি সামাজিক দুরত্ব ও সরকারি নির্দেশনা।
এ বিষয়ে গ্রাম্য মাতব্বর আলা উদ্দিন, আবদুল হাই ও মনসুর আলী জানান, তারা সমাধানের চেষ্টা করেছেন কিন্তু ছেলের পক্ষ কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছে না। অপর দিকে মেয়েও ছেলের বাড়ি থেকে বের হতে রাজি হচ্ছেনা।
তবে গোপন সূত্র জানিয়েছে, মেয়ে ও ছেলের বয়স কম হওয়ায় অতি গোপনে মাতব্বরদের যোগসাজসে অতিগোপনে বিয়ের প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান জসিম মাস্টার এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ছেলে মেয়ের অভিভাবক কে ডেকে এনে বাল্য বিয়ের কোনো প্রস্তুতি যাতে না নেয়া হয় এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছি। তবে আজকে সালিশ বিচারের নামে জনসমাগমের বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা বলেন, সালিশ বিচারের নামে এত লোক সমাগম হওয়ার উচিত নয়। আমি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে খতিয়ে দেখবো।
বার্তাবাজার/এসজে