কুড়িগ্রামে গত কয়েকদিন ধরে জেলা সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম মিয়া’র সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের ত্রান কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী ও ইউপি সদস্যগন । এর জেরে গত ১৮ এপ্রিল শনিবার ঘোগাদহ বাজারে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ত্রান কার্যক্রমের অনিয়ম ও অভিযোগ এনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন ইউনিয়ন পরিষদ এর ১০ জন ইউপি মেম্বারসহ এলাকাবাসী । ঠিক তার ২দিন পর গত ২০ এপ্রিল সোমবার ঐ চেয়ারম্যানের পক্ষ নিয়ে ঘোগাদহ বাজারে মানববন্ধন করে ইউনিয়ন যুবলীগ । পাল্টাপাল্টি এরকম মানববন্ধন ও বিক্ষোভের কারণে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া । ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার ঘোগাদহ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র । ইউপি সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী ১,২,৩,৫,৬ নং ওয়ার্ডে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,এসব এলাকায় অধিকাংশ লোকজন এখনো পায়নি সরকারি ত্রান সহায়তা । ২ ও ৬ নং ওর্য়াডের কিছু লোক ত্রান পেলেও তারা জানান সেসব ত্রানের তালিকা চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কিছু দলীয় সমর্থকরা তালিকা করেছেন । ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জানানো হয় এখন পর্যন্ত তারা বরাদ্দ পেয়েছেন ১১ মেট্রিক টন চাল,এর মধ্যে ৩৫০ থেকে ৪০০ পরিবারকে তারা সহায়তা করেছেন ।

১০ জন মেম্বারদের মধ্যে অভিযোগকারী প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল বার্তা বাজার কে বলেন,”পরিষদের চেয়ারম্যান আমাদের কোন মিটিং এ ডাকেন না,তিনি একায় একায় তালিকা করে ত্রান দেন,আমাদের দায়িত্ব দেন না,আমরা আমাদের ভোটারকে ত্রান দিতে পারি না । আমাদের তিনি সম্মানী ভাতাও এখনো দেন নি ,আমরা চেয়ারম্যানের এমন দূর্নীতির বিচার চাই । ” এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম বলেন,” করোনার কারনে পরিষদে মিটিং করছি না,তাই সবাইকে ডাকতে পারি না,ফোনে অনেককে বললে তারা আমার কথা শোনেন না । আমি করোনার কারনে এখন ট্যাক্স তুলতে পারি নাই,তাই তাদের সম্মানী দিতে পারছি না । আরেক প্রশ্নেের জবাবে তিনি জানান,অভিযুক্ত ওর্য়াড গুলোর তিনি তালিকা পেয়েছেন,২/৩ দিনের মধ্যে ত্রান দেবেন তাদের । তালিকা কারা করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এগুলো মেম্বাররা কিছু দিয়েছেন এবং সংরক্ষিত নারী মেম্বাররাও দিয়েছেন কিছু ।” এলাকার এরকম মিশ্র প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন,”এলাকায় আইনশৃঙ্খলা যাতে বিঘ্ন না ঘটে,সদর ওসিকে বলা আছে,তিনি চেয়ারম্যানকে সর্তক করে দিয়েছেন ।” অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মোঃ রেজাউল করিম এ ব্যাপারে জানান,চেয়ারম্যানের বিষয়ে সদর ইউএনও কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে,তিনি বিষয়টি সমাধানে চেস্টা করছেন ।
উল্লেখ্য,ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে,১৫০ বছরের বকুল গাছ বিনা নিলামে কাটা,বাজারের রাস্তার ইট তুলে নিয়ে বাথরুম বানানো,ঘাটের ইজারা ডাক সহ নানা অনিয়মের অভিযোগদীর্ঘদিন ধরে করে আসছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ এর ১০ ইউপি সদস্য ।
বার্তা বাজার/এম.সি