‘মা বাবাদের অপমান মুখ বুঝে সহ্য করা হবেনা’- কঠিন হুঁশিয়ারি সাভারের ইউএনও’র

‘মা বাবাদের অপমান মুখ বুঝে সহ্য করা হবেনা এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ’- জানালেন ঢাকার সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সাভারের তালবাগ এলাকায় কবরস্থানের গেটে মানিকগঞ্জ থেকে নিয়ে আসা করোনা আক্রান্ত সন্দেহে সন্তানরা এক বৃদ্ধ মা কে ফেলে গেলে তাকে উদ্ধার করার সময় উপস্থিত গণমাধ্যমকে একথা জানান তিনি।

ছবি:বার্তাবাজার।

পরে উদ্ধারকৃত ওই বৃদ্ধা মাকে সুচিকিৎসা প্রদান এবং তিনি আসলেই করোনা পজিটিভ কিনা তা নির্ণয়ে নমুনা সংগ্রহ করার জন্য তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেন।
ছবি:বার্তাবাজার।

কিয়ামত বোধহয় আসন্ন। পবিত্র ধর্মগ্রন্থে আছে, কেয়ামত আসার পূর্বে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, সহমর্মিতা, মূল্যবোধ সবকিছুই বিনষ্ট হয়ে যায়। সবকিছু চলে যায় ধ্বংসের পথে।

মানবিকতা আজ হারিয়ে যাচ্ছে হৃদয়হীন যান্ত্রিকতার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। তবে আশার কথা হচ্ছে, গভীর সমুদ্রের বাতি ঘরের মতো আলোর দিশা হয়ে কিছু মানুষ পৃথিবীকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্ত থেকে মানবিকতা দিয়ে ঠেকিয়ে রাখছেন।

বর্তমানে ঢাকার সাভার এলাকার জনগণ যেমন প্রত্যক্ষ করছে অমানবিক দৃশ্য, তেমনিভাবে মানবিকতার কান্ডারি হয়ে উপস্থিত হচ্ছে সাভার উপজেলা প্রশাসন যার নেতৃত্বে রয়েছেন মানবিক ও আলোকিত মানুষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজুর রহমান।

প্রসঙ্গত, গত দুইদিন পূর্বেও এক বৃদ্ধ মহিলাকে করোনা রোগী ভেবে তার ছেলেরা ফেলে যায় সাভারের হেমায়েতপুরে। সেই সময়েও সাভার উপজেলা প্রশাসন ঐ মহিলাকে মায়ের মর্যাদা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে সকল দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

এর ঠিক দুই দিন পর আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ থেকে এক বৃদ্ধা মাকে তার দুই মেয়ে চুল কেটে ফেলে যায় সাভারের তালবাগ এলাকায়।

খবর পেয়ে সাভার উপজেলার সুযোগ্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার পারভেজুর রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জননেতা মঞ্জুরুল আলম রাজীব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই মা এর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

সাভার উপজেলা প্রশাসন তার চিকিৎসা সহ সকল দায় দায়িত্ব গ্রহণ করায় মুহুর্তে ঘটনাটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ায় সাভারের সর্বস্তরের মানুষ ইউএনও সহ উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক কর্মকান্ডের প্রতি সাধুবাদ জানায়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব পারভেজুর রহমান কে তাৎক্ষণিক ভাবে ইলেকট্রনিক ও প্রেস মিডিয়া ‘ঐ মহিলার কি হবে?’- এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং হৃদয় বিদারক ঘটনা। দুই দিন পূর্বেও ঠিক এই রকম এক বৃদ্ধা মহিলাকে যে মর্যাদা উপজেলা প্রশাসন দিয়েছিল, ঠিক একই মর্যাদা দিয়ে এই মায়েরও সকল দেখভাল করা হবে।

এসময় তিনি আরও বলেন, আমি ওই সকল কুসন্তানদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছি, যারা বৃদ্ধ মা-বাবাদের এভাবে রাস্তায় ফেলে যাচ্ছেন তাদের প্রত্যেককেই দেশের সকল উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় খুঁজে বের করা হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।

রাস্তায় ফেলে যাওয়া এ সমস্ত বৃদ্ধরা এখন উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বে। আমি একজন মায়ের সন্তান হিসেবে বলছি, এসব মা বাবাদের অপমান মুখ বুঝে সহ্য করা হবেনা। অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

এব্যাপারে গণমাধ্যমকে সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব বলেন, এই বৃদ্ধা মা ঠিক মতো কথাও বলতে পারে না। শুধু দু’একটা কথা বলতে পারেন। যেহেতু উনার পরিবার পরিজন এখানে কেউ নেই , তাঁর চিকিৎসার ভার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নিলাম।

করোনায় আক্রান্ত হলেও উনার চিকিৎসা করাবো আর যদি করোনা আক্রান্ত না হন তাহলেও যতদিন চিকিৎসা চলবে ততদিন উনার চিকিৎসা সহ সকল ভরণপোষনের দায়িত্ব আমি নিলাম। পাশাপাশি এই মায়ের ঠিকানা সংগ্রহ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ছবি:বার্তাবাজার।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডাঃ নাজমুল হুদা মিঠু জানান, উপজেলা প্রশাসন এক বৃদ্ধা মা কে আমাদের এখানে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেছেন। তার করোনা রোগ নির্ণয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ সহ অন্যান্য চিকিৎসার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর