হবিগঞ্জে উপসর্গ ছাড়াই এক চিকিৎসক ও এক নার্সসহ ১ দিনে ১০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।সোমবার রাতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নিকট তাদের রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে।
তাদের সবাইকে সদর আধুনিক হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
জেলা প্রশাসক জানান, তাদের করোনা নমুনা পরীক্ষার জন্য ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছিল। সোমবার রাত ১০টার পর তাদের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে লাখাই উপজেলার ৩, বানিয়াচংয়ের ৩, বাহুবলের ১, আজমিরীগঞ্জের ২ ও চুনারুঘাট উপজেলার ২ জন রয়েছেন। তাদের অনেকেই জেলার বাইরে থেকে এসেছেন।
সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, কিছুদিন পূর্বে ৩৪ জন একটি গাড়িতে করে আজমিরীগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। তাদের একজন মাত্র নারী আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বাকিরা ইটনা, মিঠামইন উপজেলার বাসিন্দা। তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। বাকি একজন সিলেটে পাথর কোয়ারিতে কাজ করতেন। আজমিরীগঞ্জে বেড়াতে এসেছেন। তারা দু’জনই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনজন নিজেদের ধান কাটার শ্রমিক পরিচয় দিয়ে বানিয়াচং উপজেলায় প্রবেশ করেছেন।
চুনারুঘাটের মেয়ে এসেছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে। কিন্তু মেয়ের করোনা না থাকলেও বাবা করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। বাহুবলের আক্রান্ত ব্যক্তিও নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন।
লাখাইয়ে একজন ডাক্তার ও একজন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ১০ জনের মাঝে ৮ জন পুরুষ এবং ২ জন মহিলা। এর আগে গত ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ ফেরত একজন মাইক্রোবাসচালক হবিগঞ্জে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন। আর এবার একদিনেই ১০ জন আক্রান্তের খবর এসেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন।
এ দিকে একদিনেই ১০ জন করোনা আক্রান্তের খবরে জেলাজুড়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। তারা কে কোথায় ঘোরাঘুরি করেছেন এটিই এখন সবার আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ, সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোস্তাফিজুর রহমান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি মর্জিনা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আক্রান্তদের বাড়ি, তাদের আশপাশের বাড়িগুলো এবং বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জের দুইটি ইউনিয়নের অংশবিশেষ লকডাউন করে রাখা হয়েছে।
আক্রান্তরা সবাই সুস্থ আছেন জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন ডা. একেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আক্রান্তদের কারও শরীরে করোনা রোগের উপসর্গ নেই। তারা সবাই দেখতে সুস্থ আছেন। প্রথম যিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন তার ১১ দিন চলছে। তিনি দেখতে পুরো সুস্থ। তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড় নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু পরপর দুইবার পরীক্ষায় যদি নেগেটিভ না আসে তবে কাউকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেয়া হয় না।
বার্তা বাজার/ডাব্লিও.এস