করোনার প্রাদুর্ভাবে কর্মহীনদের জন্য অনুদান দিলেন ভিক্ষুক

দেশে জ্যামিতিক হারে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঘরে থাকতে গিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছে দেশের বেশিরভাগ মানুষ। এমন অবস্থায় সরকারের পাশাপাশি অনেক বিত্তবান মানুষ অসহায়দের পাশে দাড়িয়েছে। দেশের অসহায় মানুষদের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার ঘটনা ঘটলেও শেরপুরে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য নগদ অর্থ অনুদান দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক ভিক্ষুক।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় ইউএনও’র কাছে কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য দশ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন এক ভিক্ষুক। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে তার এই টাকা তিনি ঝিনাইগাতী ইউএনও রুবেল মাহমুদের হাতে তুলে দেন।

জানা গেছে, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গান্ধিগাঁও এলাকার ৮০ বছর বয়সী ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনের সংসার চলে ভিক্ষাবৃত্তির টাকায়। ভিক্ষাবৃত্তি করে নিজের বসত ঘর মেরামতের জন্য দুই বছরে জমিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। ঘর মেরামত না করে করোনায় বিপর্যস্ত কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ওই টাকা দান করেছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ত্রাণ তহবিলে।

ঝিনাইগাতী উপজেলার দি প্যাসিফিক ক্লাবের সভাপতি নাট্য নির্মাতা রায়হান জুয়েল বলেন, গত রবিবার ইউএনও রুবেল মামুদের নির্দেশে খাদ্য সহায়তার জন্য ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা কর্মহীন অসহায় দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নে গান্ধীগাঁও গ্রামে যান। এ সময় ভিক্ষুক নজিমুদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে তাকে ইউএনর’র পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার কথা বলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান তারা। পরে ভিক্ষুক ওই তালিকায় তার নাম না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। একই সঙ্গে ওই ভিক্ষুক বলেন, নিজের বসত ঘর মেরামত করার জন্য দুই বছরে ভিক্ষা করে জমিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। এ টাকা স্বেচ্ছায় বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহায়দের খাদ্য দেওয়ার জন্য দান করবেন তিনি। পরে মঙ্গলবার ‘দি প্যাসিফিক’ ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউএনও’র কাছে ওই ভিক্ষুককে নিয়ে আসলে তার জমানো ১০ হাজার টাকা ইউএনও’র হাতে তুলে দেন তিনি।

এসময় ভিক্ষুক নজিমুদ্দিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বলেন, ‘আমি ভিক্ষা করে খাইয়ে-খুইচরে দুই বছরে এ টেহা জড়ো করছি। আমার ঘরডা ভাঙ্গে গেছে গ্যা। এহন আর ঘর-দরজা দিলাম না। দশে এহন (মানুষ) কষ্ট করতাছে, আমি এ টেহ্যা ইউএনও সাহেবের হাতে দিলাম। দশেরে দিয়ে দেক, খাইয়ে বাঁচুক।’

কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এই অনুদান পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবলে মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকারি চাল দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে তহবিল খোলা হয়েছে। আজকে একজন ভিক্ষুক, যিনি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে। তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে উপার্জিত ১০ হাজার টাকা আমাদের তহবিলে দিয়েছেন। এ কাজের জন্য নজিমুদ্দিনকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, এটা মহানুভবতার প্রকৃত উদাহরণ। এ উদাহরণের মাধ্যমে সমাজের যারা বিত্তশালী আছেন, তাদের প্রতি আহ্বান জানাই এ দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। এছাড়া পরবর্তীতে ভিক্ষুক নাজিম উদ্দিনের প্রয়োজনে সকল সহযোগিতার আশ্বাসও দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

বার্তা বাজার/ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর