আজ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওরের ধান কাটার কাজ তদারকি করেছেন বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।
ধান কাটার কাজ পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া, সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক শ্রীনিবাস দেবনাথসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ।
আবহাওয়ার অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আগামী ২৬ এপ্রিল হতে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এই জেলায় ফলে অকাল বন্যা দেখা দিতে পারে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগাম বন্যার হাত থেকে বোরো ফসল রক্ষার জন্য বিভাগীয় কমিশনার নিজে মাঠ পর্যায়ে ফসল কাটার কার্যক্রম তদরকি করছেন।
তদারকি ও সঠিক সময়ে নিরাপদে ধান কর্তন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক/রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কৃষক প্রতিনিধিগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে দ্রুততম সময়ে ধান কাটার কাজে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে নিযুক্ত হবার বিষয়ে এবং সকল সচল হার্ভেস্টিং মেশিন ধান কাটার কাজে নিয়োজিত কারার বিষয়ে তাগিদ দেন।
এছাড়া জেলা পর্যায়ের দপ্তরের কর্মকর্তাগণকে ধান কাটার কাজ মনিটরিংয়ের জন্য উপজেলা ভিত্তিক দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের উপস্থিতিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিশেষ সভায় আগাম বন্যার হাত থেকে বুরো ধান রক্ষার্থে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
১:আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই সপ্তাহে সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাতসহ আগাম বন্যার আশংকা রয়েছে যার ফলে সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
করোনা সংক্রমণের ফলে বিশ্বে কৃষি ও অকৃষি উৎপাদনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। হাওরাঞ্চলে উৎপাদিত ধান রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই হাওরের ধান কেটে তুলার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
২: চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে উদ্ভূত শ্রমিক সংকটের বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধান কাটা শ্রমিক পরিবহনের প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
শ্রমিকেরা যাতে ন্যায্য মজুরি পায় এবং অস্বচ্ছল শ্রমিকদের ত্রাণসামগ্রী প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত যেমনঃ পরিবহন শ্রমিক, বারকি শ্রমিক, ভ্রাম্যমাণ হকার, রিক্সা ও অটো চালক সহ অন্য কর্মজীবী যারা এখন কর্মহীন রয়েছেন তাদের ধানকাটায় নিয়োজিত করার জন্য আলোচনা হয়।
৩:সুনামগঞ্জ জেলার যেসব এলাকার ধান কাটার উপযুক্ত হয়েছে, অন্য এলাকার কম্বাইন্ড হারভেস্টর এবং রিপার মেশিন সেসব এলাকায় প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নষ্ট ও অকার্যকর মেশিন মেরামতের জন্য এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক চালক নিয়োগের জন্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত হয় উক্ত সভায়।
৪:ধান কাটার শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোক ধানকাটায় নিয়োজিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা অনুযায়ী আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ছাত্র, শিক্ষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী ব্যাপক ভিত্তিতে ধানকাটায় অংশগ্রহণ করবেন সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
৫:ধানকাটার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে চলমান বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। ধান কাটা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধানের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম গঠন করে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। সভায় উপস্থিত সকলে আগামী ০৭(সাত) দিনের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় উৎপাদিত ফসলের শতভাগ আহরণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কেএ/বার্তাবাজার