করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে গৃহে অবস্থান সহ সকল সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কার্যত সারা দেশ স্থবির হয়ে পড়েছে।
ফলে দুঃস্থ ও অসহায় রোজগারহীন পরিবারের পাশাপাশি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও পড়েছে বিপাকে। সবাইই নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে সমস্যায় পড়লেও এদের অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ গ্রহন কিংবা কারও কাছে সাহায্য চাইতেও পারছে না। এসব পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মানবিক ছাত্র সংগঠন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগ।

এদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এর শুরুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন এই পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যান্য সকল ইউনিটের মতো ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের যোগ্য সভাপতি সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ঢাকা জেলা উত্তরের আওতাধীন সকল উপজেলা, থানা এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্যরা মৃত্যুভীতি উপেক্ষা করে নিজেদের জান-মাল ও সময় নিয়ে সাধারণ অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়।

তারা করোনা সম্পর্কে বিভিন্ন সচেতনামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি সরকার ঘোষিত নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কাজ করে। পাশাপাশি কর্মহীন অসহায় ও দুঃস্থ জনগোষ্ঠীকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যাদি তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসতে শুরু করে।
সাভার, আশুলিয়া এবং ধামরাইয়ে কর্মরত একজন মফস্বল সাংবাদিক হিসেবে এইসব কর্মকান্ডের ইতিবাচক দিকটির প্রতি এই প্রতিবেদকের নজর শুরু থেকেই ছিলো। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে এই প্রতিবেদক অনেকগুলো প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের এক ছাত্রনেতা শাহীন চৌধুরী দ্বীপ এবং আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফের নানা মানবিক কর্মকান্ড সামনে আসে। আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে ওই দুই ছাত্রনেতা তাদের টিম নিয়ে অসহায় মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে এসেছে।
শাহীন চৌধুরী দ্বীপ এর পক্ষ থেকে ওই সময় খাদ্য সামগ্রীর ভিতরে একটি লিফলেট দেয়া হয়েছিলো। সেখানে তাঁর মোবাইল নাম্বার দিয়ে দেয়া হয়েছিলো এইজন্য যে, অনেক পরিবার রয়েছে যারা লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে লজ্জা বোধ করেন কিংবা এবিষয়ে প্রকাশ্যে কারও কাছে কিছু চাইতেও কুন্ঠা বোধ করেন। এদিকটি ভেবেই শাহীন চৌধুরী দ্বীপ নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারটি দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে গত ১২ এপ্রিল ওই লিফলেট বিতরনের পর থেকে যখনই তাঁর কাছে এরকম কোনো অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী চেয়ে ফোন করা হয়েছে, সেটা অতি প্রত্যুষে কিংবা দিনে বা মধ্য রাতেই এসেছে, এই মানবিক ছাত্রনেতা সেখানে খাদ্য দ্রব্যাদি নিয়ে নিজে পৌঁছে গেছেন কিংবা তার টিমের যেকোনো সদস্যকে পাঠিয়েছেন। এই কর্মতৎপরতা অদ্যবধি (এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) চলমান রয়েছে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে শাহীন চৌধুরী দ্বীপ বলেন, করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে লকডাউনে সারাদেশ ঘরবন্দী। দেশের সামর্থবান মানুষরা ভালো থাকার চেষ্টায় আছেন। তবে সামর্থহীনদের জন্য এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিড়ম্বনায় আছেন দুঃস্থ, অসহায় এমনকি সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণি।
তবে ওই বিশেষ শ্রেণিটি আত্মসম্মানের কারণে উপোষ থাকলেও হাত বাড়াতে পারছেন না। তাই আমার সামর্থ্য অনুযায়ী ‘সাহায্য চাইতে না পারা’ এমন পরিবারকেও দৈনিক খাদ্যসামগ্রী গোপনে তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দেবার চেষ্টা করছি।
গণমাধ্যমকে তিনি আরও বলেন, আমার নিজের গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত অনেক পরিবারের ঘরে গিয়ে চাল, ডাল, তেল, লবণ, সাবান, পেঁয়াজ, ডিম, আটা বিভিন্ন প্রকার সবজি, মাছ, নুডুলস, ছোট বাচ্চাদের খাদ্য সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।

যাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি, তাদের সম্পর্কে আগেই খোঁজখবর নিয়েছি এবং জানতে পেরেছি এই মানুষগুলো নিজেদের সম্মান অটুট রাখার জন্য অনাহারে থাকলেও সাহায্যের জন্য রাস্তায় বের হবেন না। হয়তো কাউকে বলবেনও না।
শাহীন চৌধুরী দ্বীপ বলেন, অনেক পরিবার রাস্তায় গলির মুখে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে, আবার কেউ কেউ একাধিকবার খাবার নিচ্ছে; কিন্তু মধ্যম শ্রেণীর মানুষগুলো কেউ কেউ কোনো খাবারই পাচ্ছে না। তারা আত্মসম্মানের ভয় পাচ্ছে এবং এ ভয়ে তারা ঘর থেকেই বের হচ্ছেনা। আমি এ ধরনের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আমরা তাদের ঘরে গিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। এটা ত্রাণ নয়, ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ভালবাসার উপহার।
শাহীন চৌধুরী দ্বীপ আরও জানান, যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে, ততদিন চেষ্টা করবো এ মানুষগুলোর কাছে খাবার পৌঁছে দিতে। আমার টিম আছে, তারা প্রতিদিন যেসব ভুক্তভোগী ফোন করে তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়। অবশ্যই মানবিক চিন্তা থেকে এ উদ্যোগ নিয়েছি।
সামর্থ্যে কুলালে আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। এ অবস্থা কতদিন চলবে তা আমরা কেউ জানি না, আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাবো, বাকিটা আল্লাহ ভরসা।
এভাবে মানবিক ছাত্র সংগঠন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের চলমান মানবিক কর্মকান্ডে দেশের এই মহামারির পরিস্থিতিতে অন্যান্য বিত্তবানদের অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই।
কেএ/বার্তাবাজার