সাতক্ষীরা সদরের বৈকারী সীমান্তের বিপরীতে ভারতের গোবারডাঙ্গা বিএসএফ এর অস্থায়ী চৌকির ধারে এক নারীকে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে।
জ্যোসা রানী দাস (৩৫) নামের ওই নারী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরপনগর থানার সীমান্তবর্তী সোনাই খালের পাশে বিত্তিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
প্রায় ২০ বছর আগে তার সাথে বিয়ে হয়েছিল সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী গ্রাম বৈকারী পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে। স্থানীয়রা জানান, একটি ছেলে সন্তান থাকা অবস্থায় কিছুদিন পর স্বামী শান্তি রঞ্জনের সাথে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এসময় স্বামী শান্তিরঞ্জন দাস ভারতে চলে যায়।
অপরদিকে জ্যোসা ভারতে তার বাপের বাড়ি বিত্তিপাড়ায় থাকতেন। জ্যোসা ও শান্তিরঞ্জনের ছেলে বিল্টু দাস থাকত তার ঠাকুরমায়ের কাছ। সীমান্ত গ্রামবাসি জানান, সন্তানের টানে জ্যোসা নামের ওই নারী প্রায়ই অবৈধ পথে শ্বশুরবাড়ি বাংলাদেশের বৈকারীতে আসা যাওয়া করতেন। এখানে তার ছেলে বিল্টু দাস সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে অনার্স পাস করেছে।
গ্রামবাসি আরও জানান, সোমবার রাতে কোন এক সময় বিএসএফ এর গোবারডাঙ্গা ক্যাম্পের পাশে বিএসএফ এর অস্থায়ী আস্তানার মধ্যে জ্যোসা রানীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
তার আগে তাকে ধর্ষন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। বিএসএফ এ ঘটনা স্বরপনগর থানা পুলিশকে জানালে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ লাশটি নিয়ে গেছে। তবে এই হত্যা ও ধর্ষনের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা ভারতীয় বিএসএফ অথবা পুলিশ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি।
তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন অবৈধপথে বাংলাদেশ আসার সময় বিএসএফ তাকে ধর্ষণের পর নির্যাতন করে হত্যা করতে পারে।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র বৈকারী ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার ওয়াহদুজ্জামান জানান, বিষয়টি পুরোপুরি ভারতীয় এলাকার। এ সম্পর্কে বাংলাদেশর কোন সংশিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, ভারতীয় পুলিশ এ ব্যাপার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
কেএ/বার্তাবাজার