এ মুহুর্তে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় হুমকি করোনা ভাইরাস তাতে কোন সন্দেহ নেই। ইউরোপ -আমেরিকার শক্তিশালী দেশগুলো ও মুখ থুবড়ে পড়েছে সেখানে আমাদের অবস্থান কোথায় হবে তা ভাবতেও শিউরে উঠতে হয়।
বিশেষজ্ঞ রা ভাবছেন মে মাসের দিকে এ ভাইরাসের প্রকোপ ভয়াবহ রুপ ধারন করতে পারে বাংলাদেশে।
কিন্তু এখনও প্রশাসনিক সমন্বয় হীনতা অনেক বেশী হুমকির দিকে ধাবিত করছে মানুষকে।
গণমাধ্যমে বারবার দায়িত্বশীল ব্যাক্তিরা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় পুর্ণ প্রস্তুত, অথচ, একেবারে শুরুর দিকেই দেখা গেলো নার্স,ডাক্তার ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দের নুন্যতম সুরক্ষা দিতেও কর্তপক্ষের ব্যার্থতা।
স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য হোটেলে আবাসনের ব্যাবস্থা করার কথা গণমাধ্যমে ঘোষনা করা হলেও সরেজমিনে দেখা যায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে কেউ চুক্তিতো দুরের কথা আলাপ পর্যন্ত করেনি।
বিশ্বজুড়ে সবাই যখন করোনা মোকাবেলায় দৃশ্যমান সংকটে ঠিক তখন আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন কর্মকান্ডে হতবাক সবাই।
আমাদের মাথায় রাখতে হবে এ দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ছাড়াও আরো অনেক রোগী আছেন এবং জরুরী প্রয়োজনে তাদের হাসপাতালে আসতেই হবে। অতীতে ডেঙ্গু মোকাবেলায় ও আমাদের অভিজ্ঞতা আশা ব্যান্জক নয়।
কাজেই আমরা যদি কোয়ারান্টাইন না মেনে ডাক্তার নার্সদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে ক্রমান্বয়ে আমরা সকল স্বাস্থ্য কর্মীদের আক্রান্ত করে ফেলবো যার ফলশ্রুতি কতটা খারাপ হবে তা আমাদের ধারনার ও বাইরে।
হ্যা, এটাও ঠিক স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় একা পারবেনা এ সংকট কাটাতে। অন্যান্য মন্ত্রনালয়েরও সমন্বয় দৃশ্যমান হওয়া দরকার এবং নাগরিকদের ও সহযোগিতা দরকার।
করোনায় আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার এতো বেশী না। নিয়ম মতো স্বাস্থ্য বাতায়ন মেনে চল৷ আইসোলশনে থেকে অধিকাংশ রোগীই সুস্থ্য হয়েছেন।তারপরও আমরা নাগরিকরা তাদের সামাজিক ভাবে হেনস্থা করছি।
বাংলাদেশের মানুষ মাটির মানুষ, সহজ সরল মানুষ তাহলে কেন আজ আমরা মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে ব্যার্থ হচ্ছি।কেন আমাদের দেখতে হচ্ছে করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে বৃদ্ধাকে ফেলে যায় সন্তানেরা। অনেক স্থানে করোনায় আক্রান্ত পরিবারকে সম্মুখীন হতে হয়েছে সামাজিক ভৎর্সনার।
ভৎর্সনার ভয়ে কেউ যদি করোনার লক্ষন নিয়েও গোপনে থাকে এবং নির্দিষ্ট হাসপাতালে তথ্য না দিয়ে থাকে, তবে মনে রাখবেন এর দায় আমাদের, সরকারের না।
এই দুর্যোগে মধ্যরাতে মাত্র এক মাসের ভাড়ার জন্য বের করে দেয়া হচ্ছে ভাড়াটিয়াকে। কি নির্দয় আমরা। আক্রান্তের সংখ্যা এখনও পাঁচ হাজারে পৌছায়নি, আমরা সবাই সবার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করলে তবেই সম্ভব হবে এ সংক্রমন নিয়ন্ত্রণ।
লেখক পরিচিতিঃ শফিউল আজম শাকিল
প্রভাষক সিআরপি নার্সিং কলেজ সাভার, ঢাকা
কেএ/বার্তাবাজার