বাবার অসুস্থতার কথা শুনে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে বাড়ি ফেরেন বেনজামিন নামে এক যুবক। ঢাকার আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন তিনি। করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন জেলায় লকডাউনের কারণে নিরুপায় হয়ে তিনি হেঁটে বাড়ি ফেরেন।
ওই যুবকের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার বিহারকোল এলাকায়। তার বাবা আইজ উদ্দিন পৌর কাউন্সিলর। ১৪ এপ্রিল তিনি আশুলিয়া থেকে হেঁটেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ একটানা হেঁটে ৩৬ ঘণ্টায় শুক্রবার ভোরে নিজ গ্রামে পৌঁছান। শুধু নৌকায় চেপে তাকে যমুনা নদী পার হতে হলো।
বেনজামিন বলেন, লকডাউনের শুরুতে অনেকেই পণ্যবাহী গাড়িতে কিংবা কাভার্ডভ্যানে বাড়ি ফিরেছেন। বাড়ি ফিরলেও বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু কর্মব্যস্ততার মধ্যে সময়মতো বাড়ি ফিরতে পারিনি। বাবার অসুস্থের কথা শুনে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই, কিন্তু সড়কে যানবাহনের সংখ্যা ছিল কম। এছাড়া সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশিও ছিল বেশি। তাই বাধ্য হয়ে হেঁটেই বাড়িতে আসতে হয়েছে।
এদিকে বেনজামিনের বাড়ি আসার খবর পেয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বাধ্য করার প্রস্তুতি নেয় স্থানীয় প্রশাসন। রোগে আক্রান্ত শয্যাশায়ী জনপ্রতিনিধি বাবার সেবা করার উদ্দেশ্য ছিল বেনজামিনের। কিন্তু স্বজনদের চাপে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়।
রোববার বিকেলে বাগাতিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেনজামিনকে রাখা হয়। পরদিন এখানে আরো একজনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি