ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে সরকারের প্রতি আস্থা পোষণের আহবান জাহাঙ্গীর চৌধুরীর
দেশে চলমান লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিক প্লাটফর্মের আহবায়ক ও সিপিডি’র ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখার আহবান জানিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নির্ভর বক্তব্য প্রদানের আহবান জানান চট্টগ্রামের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা (সি ইন সি, স্পেশাল) ও সদরঘাট থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর চৌধুরী।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধা ৭টায় ড.দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের প্রতি এ আহবান জানান বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সহ সভাপতি ও বাংলাদেশ স্কাউটসের বর্তমান লিডার ট্রেইনার(এল টি) আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর চৌধুরী।
মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর চৌধুরী বার্তাবাজারকে বলেন, ড.দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেশের একজন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও সম্মানি ব্যক্তি। তবে শনিবার (১৮ এপ্রিল) তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক ডাউন পরিস্থিতিতে নারী নির্যাতন ও গর্ভধারণ বৃদ্ধি হয়েছে বলার পাশাপাশি যুব সমাজের মাদক ও জঙ্গি প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে যে বক্তব্য প্রকাশ করেছেন।
তা অস্বচ্ছ ও ভিত্তিহীন তথ্যনির্ভর বক্তব্য। লক ডাউন পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক দিক নির্দেশনায় সারা দেশের আনাচে কানাচে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে সক্রিয় ও সচেতন ভূমিকা পালন করছে, সরকারি সহায়তার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও যেখানে সকলকে নিজ নিজ গৃহে থেকে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ডাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থণা করার আহবান জানান।
সেখানে নারী নির্যাতন, গর্ভধারণ বৃদ্ধি, জঙ্গিবাদের কথা বলা নিতান্তই দুঃখজনক। কারণ, লক ডাউন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাথে সাথে মানুষের মানবিক ও আধ্যাত্মিক চিন্তা চেতনার উন্নতি ঘটেছে। মানুষ নিজ নিজ অবস্থান হতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে, ঘরে সময় কাটাচ্ছে, ইবাদত বন্দেগি করছে। সেই সাথে সর্বত্র আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও জনগণের পাশে থাকছেন। এমতাবস্থায় ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের এমন বক্তব্যে সরকারের প্রতি অনাস্থা ও জনগণের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের সকল স্তরের জনগণের খাদ্যের যোগান দিতে একের পর এক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণে সর্বমোট ৭৭ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন।
যা জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। সেই সাথে যথাশীঘ্র জনগণকে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসকদের সার্বিক সহায়তা সহ জনগণের সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়ত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে নিরলস কাজ করে চলেছেন।
বিভিন্ন ব্যক্তি ও বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জনগণের সেবা সহায়তা করে চলেছেন। সেখানে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মত একজন গুনী ও জ্ঞানী ব্যক্তি যদি খাদ্য ঘাটতি ও দুর্ভিক্ষের কথা বলেন। তাহলে তা অতি দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক বিষয়।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্লাটফর্ম ফেসবুক পেইজে ‘কোভিড-১৯’ মোকাবিলায় বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান সমূহের তৎপরতা কার্যকারিতা বাড়াতে সরকারের প্রতি সুপারিশ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে নারী নির্যাতন ও গর্ভধারণ বৃদ্ধির দাবি করেন এবং লক ডাউনে যুব সমাজের মাদক ও জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। যা চট্টগ্রামের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা (সি ইন সি, স্পেশাল) আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর চৌধুরীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে দেশের এমন ক্রান্তিকালে এমন অস্বচ্ছ ও ধারণা নির্ভর বক্তব্য প্রদান হতে বিরত থাকার সবিনয় অনুরোধ জানান।
কেএ/বার্তাবাজার