এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি ভারতের মুম্বাইয়ের ধারাভিতে করোনার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত ম্যালেরিয়ার ওষুধটি (হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন) পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। নিউজ এইটিন তাদের এক খবরে এই তথ্য জানিয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারিতে ভারতের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ রাজ্যের তালিকায় রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে যে পরিস্থিতি, তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই নিউইয়র্কের মতো মৃত্যু মিছিল দেখতে হতে পারে মুম্বাই শহরে।
সেই পরিস্থিতিতে যাতে পড়তে না হয়, এ জন্য মুম্বাইয়ের বস্তিতে অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন বিলি করার পরিকল্পনা করছে মহারাষ্ট্র সরকার।
এশিয়ার বৃহত্তম মুম্বাইয়ের ধারাভি বস্তিতে ১০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। এই বস্তির প্রতি বর্গকিলোমিটারে মানুষের ঘনত্ব ২ লাখ ৮০ হাজার; যা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের চেয়ে তিনগুণ বেশি।
মহারাষ্ট্র সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা সবাইকে ঢালাওভাবে ওষুধটি দেব না। রিস্ক ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ওষুধটি দেয়া হবে। আপাতত কত জনকে কি পরিমাণ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন দেয়া যায়, তা খতিয়ে দেখছে সরকার।
মহারাষ্ট্রের মহামারি নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার চিকিত্সক সুভাষ সলুঙ্খ বলেন, এই স্তরে হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের কিছু সুবিধা পাওয়া গেছে। তবে ওষুধটি দেয়ার আগে হার্ট ও রেডিনার উপর কোনও রকম চাপ পড়ছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হবে।
বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসের ৭০টির বেশি ভ্যাকসিন এবং ওষুধ তৈরি নিয়ে কাজ করছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে। তবে এসব ওষুধের চূড়ান্ত ফল এবং অনুমোদনের জন্য অন্তত এক থেকে দেড় বছর অপেক্ষা করতে হবে।
কিন্তু তার আগেই চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে ম্যালেরিয়ানিরোধী ওষুধ হাউড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা হয়েছে। কয়েকটি দেশ করোনার চিকিৎসায় হাউড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে।
তবে বেশ কিছু গবেষণায় ওষুধটি করোনা রোগীদের প্রয়োগের পর নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বলেও জানানো হয়েছে।
চীনের একটি গবেষণা বলছে, এই ভাইরাসটি একেবারে নির্মূল করার জন্য ম্যালেরিয়ারোধী হাউড্রোক্সিক্লোরোকুইন কাজ করেনি। এমনকি ওষুধটি প্রয়োগের পর তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস