মেধাবৃত্তির অর্থ ‘মোবাইল ব্যাংকিং’ এর মাধ্যমে প্রদানের দাবি ছাত্র ইউনিয়নের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তির অর্থ ‘মোবাইল ব্যাংকিং’ এর মাধ্যমে প্রদান এবং অভাবগ্রস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য ফাণ্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ।

সোমবার সংগঠনটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমতিয়াজ অর্ণব সাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি জানান তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রভাবে সমগ্র দেশের অর্থনীতি আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। সবচেয়ে বাজে অবস্থার সম্মুখীন দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। এই পরিস্থিতিতে সরকারের ত্রাণ তৎপরতা একদিকে যেমন অপ্রতুল, অন্যদিকে পৌছাচ্ছে না প্রকৃত অভাবী মানুষদের কাছে।

এমন অবস্থায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিপুল সংখ্যক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা পড়াশুনা করেন। এই পরিস্থিতে নিজেদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিবারের সাথে অভাব-অনটনে দিনাতিপাত করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী।

ইতোমধ্যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু বিভাগের শিক্ষকগণ সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের জন্যে তাঁদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন প্রশাসনকে আহ্বান জানাচ্ছে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে।

আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগী হলে সম্মানিত শিক্ষকগণ এবং সামর্থ্যবান কর্মকর্তারা তাঁদের বেতনের একটি অংশ কিংবা উৎসব ভাতা দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আপদকালীন ফাণ্ড তৈরি করতে দ্বিমত করবেন না।

এছাড়া সকল বিভাগকে দায়িত্ব দিয়ে অভাবগ্রস্থ শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরি করে উত্তোলিত অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং’এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করতে বেগ পেতে হবে না বলেই মনে করে ছাত্র ইউনিয়ন।

আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে প্রতি ব্যাচের ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে প্রদেয় সম্পূরক আর্থিক সাহায্যের মাসিক অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রশাসনের একটি ভালো সিদ্ধান্ত ছিলো।

আমরা অবগত আছি, যেসকল শিক্ষার্থীকে সর্বশেষ চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই আর্থিক সাহায্যের উপযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখনো সেই অর্থ উত্তোলন করতে পারেননি কিংবা করেননি।

এই আপদকালীন সময়ে বিশেষ ব্যবস্থা করে হলেও শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য এই অর্থ তাঁদের কাছে মোবাইল ব্যাংকিং’এর মাধ্যমে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ করছে ছাত্র ইউনিয়ন ।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যেহেতু ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এই সম্পূরক আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়, সেহেতু তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ রইলো।

সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য অর্থ এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য তাঁদের হাতে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে এই মহামারী আক্রান্ত সময়ে অভাবগ্রস্থ শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের জন্যে কিছুটা হলেও সুখ-স্বাচ্ছন্দের বার্তা দিতে জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি সর্বজন বিশ্ববিদ্যালয় পিছপা হবেনা বলেই মনে করে ছাত্র ইউনিয়ন।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর