প্রাণঘাতী করোনায় ভাইরাসের থাবায় যেখানে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো বেসামাল, তখন সফলতার সঙ্গে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অন্যতম উদাহরণ তৈরী করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। চীনের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও ব্যাপক পদক্ষেপের কারণে দ্রুত সময়ে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। দেশটিতে মোট ১০ হাজার ৬৭৪ জন করোনায় আক্রান্ত হলেও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ হাজারের বেশি মানুষ।
বিশ্বজুড়ে করোনার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। যা কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ আসছে না। সেখানে আশার আলো দেখাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। যথাযথ ও সময়োপযোগী কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ভাইরাসটির বিস্তার কমিয়ে আনতে সফল হয়েছে দেশটি।
চীন থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যাপকভাবে করোনা শনাক্তে পরীক্ষা চালু রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে করোনা টেস্ট বুথ। এখন পর্যন্ত দেশটিতে সাড়ে ৫ লাখের মতো মানুষকে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর আগের মহামারি, সার্স ও মার্স মোকাবিলার অভিজ্ঞতাও কাজে লাগিয়েছে সিউল।
দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া পর্যাপ্ত পরীক্ষা করানোয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। মোড় মোড়ে বসানো হয়েছে করোনা টেস্টের বুথ। প্রতিদিন ২০ হাজার লোকক বুথের মাধ্যমে টেস্ট করানো হয়। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তিকেও তারা ব্যাপকভাবে কাজে লাগিয়েছে।’
সর্বাধুনিক টেলিপ্রযুক্তির সাহায্যে সম্ভাব্য রোগীদের ট্রাকিং করে ভাইরাস টেস্টের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। আক্রান্তদের চলাফেরা প্রযুক্তির মাধ্যমে জনসাধারণকে জানানো হয় যেন অন্যরা সচেতন হতে পারেন।
এছাড়া, রেল ও বাস স্টেশন এবং বিমানবন্দরে জনসমাগম এলাকাগুলোতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য রাখা হয় হ্যান্ড স্যানিটাইজার। করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা একযোগে কাজ করার পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।