করোনার দাপটে সারাদেশের মতো ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের জনজীবনের পাশাপাশি প্রাণীকূলের অবস্থাও শোচনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের কর্মহীনতায় সাধারণ মানুষের আয় রোজগার বন্ধ থাকায় সীমিত হয়ে পড়েছে রুটি-রুজিও। বন্ধ রয়েছে হোটেল সহ বিভিন্ন খাবারের দোকানগুলি। যে কারণে চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে পশুপ্রাণী গুলোও। যাদের মধ্যে বেশি কষ্টে আছে রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুরগুলো।
অন্যান্য প্রাণী মানুষের সান্নিধ্যে থাকায় কিছুটা হলেও ক্ষুধা নিবারণের সুযোগ পায়। কিন্তু বে-ওয়ারিশ কুকুর গুলোকে কেউ খাবার দেয় না। অফিস আদালত হোটেল রেস্তোরা, দোকানপাটসহ অন্যান্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ থাকায় কোথাও খাবার তৈরী বা খাবার নষ্ট হচ্ছে না। ফলে কুকুরেরও খাবারের সংস্থান হচ্ছে না। কারণ মানুষের ফেলে দেয়া খাবারের উচ্ছিষ্টাংশ খেয়েই কুকুরগুলো তাদের ক্ষুধা নিবারণ করে থাকে।

করোনার প্রভাবের কারণে যখন চরম খাদ্য সংকটে এসব কুকুরের বেঁচে থাকা দূরহ হয়ে পড়েছে এমতাবস্থায় ঠাকুরগাঁওয়ের বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর পাশে দাড়িয়েছে একদল যুবক। ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকাসহ আশেপাশের এলাকার ক্ষুধার্ত কুকুর গুলোকে রান্না করা খাবার খাওয়াচ্ছে তারা। খাবার খেয়ে যেন নতুন করে জীবন ফিরে পাচ্ছে কুকুরগুলো।
স্বেচ্ছাসেবক যুবকদের একজন আশরাফুল ইসলাম জানান, আমরা প্রায় ৩০ জন মিলে চাঁদা দিয়ে খাবার রান্না করে ভ্যানে করে প্রতিদিনই দুইশ থেকে আড়াইশ কুকুরের খাবার যোগাচ্ছি। যতদিন করোনার প্রভাব থাকবে ততদিন আমরা কুকুগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
উল্লেখ্য, স্বেচ্ছাসেবী এসব যুবক সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় জুনোটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামে কাজ করতেন। তাদের মূল কাজ ছিল জলাতঙ্ক রোধে কুকুর গুলোকে ভ্যাকসিন দেয়া। করোনা ভাইরাসের কারণে তাদের উক্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও মানবিক কারণে তারা কুকুরগুলোর পাশে দাড়িয়েছেন।
বার্তা বাজার/এম.সি