ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে অবশেষে চালু করা হলো করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ল্যাবরেটরী।
আজ (সোমবার) সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম চালু করা হয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের চতুর্থ তলায় করোনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর (পলিমিয়ার্স চেইন রি-অ্যাকশন) যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। আর সেখানেই শুরু করা হলো প্রথম দিনে ১৯ জনের নমুনা নিয়ে এই করোনা ভাইরাস পরীক্ষা।
এসময় উপস্থিত ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এস এম খবিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ ছিদ্দিকুর রহমান, বিএমএ এর সভাপতি ডাঃ আসম জাহাঙ্গীর চৌধুরী টিটো, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ মাহফুজুর রহমান বুলু, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল আলম প্রমুখ।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এসএম খবিরুল ইসলাম বলেন, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের মাধ্যমে প্রাপ্ত নমুনা এখানে শুরুতে পরীক্ষা করা হবে। প্রথম দিনে ৫৭ টি নমুনা পরীক্ষা করা হবে। প্রতিদিন এখানে ৯৪টি নমুনা টেষ্ট করা যাবে। প্রথম পর্যায়ে ফরিদপুর সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত নমুনা দিয়ে এ পরীক্ষা শুরু করা হবে। পরে আশেপাশের অন্যান্য জেলার নমুনাও পরীক্ষা করা হবে।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হবে। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে নমুনা পরীক্ষার জন্য এক হাজার কীট পাঠানো হয়েছে।
এ ল্যাবের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এসএম খবিরুল ইসলাম। এছাড়া ল্যাব পরিচালনার জন্য তিন সমস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান হলেন কলেজের মাইক্রো বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল আলম, প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. ওয়াদুদ মিয়া এবং বায়ো কেমিস্ট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. রেজাউল কাদের। পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে সাতজন টেকনিশিয়ান এখানে কাজ করবেন।
বায়ো কেমিস্ট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. রেজাউল কাদের জানান, এই ল্যাবরেটরীতে কর্মরতদের জন্য তারা এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিই পেয়েছেন তবে তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া যন্ত্রপাতি ও নমুনার বর্জ জীবানুমুক্ত করার জন্য যেই অটোক্লেব মেশিন দরকার সেটিও প্রয়োজনের তুলনায় ছোট। তাদের এখন আরো কমপক্ষে ৩শ’ এন-৯৫ মাস্ক এবং ১২০ লিটারের একটি অটোক্লেব মেশিন দরকার।
তিনি বলেন, এসব চাহিদাপত্র দেওয়ার জন্য ঢাকার সিএমএসডিতে তাদের লোক পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় মাস্ক না পেলে এবং অটোক্লেব মেশিনের সক্ষমতা না বাড়ালে ক’দিন পর নমুনা পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বার্তা বাজার/এম.সি