বিভিন্ন অজুহাতে প্রশাসনের লোকজনকে পাশ কাটিয়ে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যাচ্ছে মানুষ। আত্মীয় বাড়ি থেকে শুরু করে বাজার ঘাট ও বিভিন্ন জায়গায় আড্ডায় লিপ্ত হচ্ছে তারা। এতে করে করোনা সংক্রমনের সম্ভাবনা রয়েছে অনেক বেশি। শেরপুর পৌর শহরের ধুনটমোড় সিএনজি স্ট্যান্ডে গেলে দেখা যায় এমন চিত্র। অসংখ্য মানুষ সিএনজি অটোরিকশায় করে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এদিক থেকে সেদিন যাচ্ছেন। আসলে তাদের কি এমন কাজ? কারো হাতে কাপড়ের বড় বড় ব্যাগ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে তারা অন্য এলাকা থেকে এসেছে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেই বলছে আত্মীয় বাড়িতে যাচ্ছি। আমার অমুকের সমস্যা, আমার অমুক মারা গেছে, আমার অমক খুব অসুস্থ এই ধরনের অজুহাত দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে অনেকেই। এতে করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আরো বাড়ছে।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার মানুষ ঢাকার বিভিন্ন পোশাক তৈরীর কারখানায় কাজ করে। কারখানা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে তারা চলে এসেছেন নিজ গ্রামে। নিজ গ্রামে এসে বসে নেই তারা। ছুটে চলেছেন এদিক থেকে সেদিক। কাজিপুর সোনামুখী শিমুলদাইড় গোসাইবাড়ি সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে শেরপুর শহরসহ আশেপাশের এলাকাতে। ওইসব এলাকার লোকজনদের সাথে দেখা করতে প্রতিনিয়ত তারা ছুটে চলেছেন এবাড়ি ওবাড়ি। প্রশাসন যখন এই বিষয় নিয়ে তাদেরকে ধরে জরিমানা করতে চাচ্ছেন তখনই তারা বলছেন আমার খালু মারা গেছে কারো বাবা মারা গেছে কারো আত্মীয়-স্বজন খুবই অসুস্থ তাদেরকে দেখতে যাচ্ছি ইত্যাদি। মৃত্যুর কথা শুনলে তো আর কোন কথাই নেই যেতে দিতেই হবে আর এই সুযোগেই তারা ঘোরাফেরা করছে অবাধে।
প্রশাসনের লোকজন অবশ্য বসে নেই। এলোমেলোভাবে ঘোরাফেরা করার কারণে প্রায় দেড় শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জরিমানাও আদায় করেছেন। তার পরেও এদের চোখ খুলছে না এরা বাহিরে থাকাটাই স্বাভাবিক মনে করছেন। মনে করছেন করোনা ভাইরাস যেন এদের কাছে কিছুই না। এটি একটি সাধারণ ভাইরাস।
এব্যাপারে ধুনটমোড় এলাকার এক সিএনজি চালক বলেন, আজ সকালে কাজীপুর থেকে দুইটা টিপ মারলাম। এরা সবাই ঢাকা থেকে এসেছে এবং শেরপুরের হঠাৎপাড়া নামক এলাকায় আত্মীয়র বাড়িতে যাচ্ছে। আমরা পেটের তাগিদে গাড়ি চালাই তাই এদেরকে নাও করতে পারি না। সবকিছু উপেক্ষা করে তাদেরকে নিয়ে আমরা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি। জানিনা তাদের মধ্যে প্রানঘাতি করোনা ভাইরাস আছে কিনা।
এব্যাপারে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আবুল কালাম আজাদ বলেন, এক এলাকা থেকে যেন অন্য এলাকায় কেউ প্রবেশ করতে না পাড়ে সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা মহাসড়কে বেশ কয়েকটি মাইক্রোবাস ও কোচ ফেরত দিয়েছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমশিনার (ভূমি) মো. জামশেদ আলাম রানা বলেন, কোন ভাবেই কেউ এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যেতে পারবেনা। আমরা সকল বিষয়েই নজর রাখছি। প্রশাসনের পাশাপাশি সর্ব সাধারণকেও সজাগ থাকতে হবে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া করোনা ভাইরাস নির্মূল করা সম্ভবনা। যদি ভালভাবে কেউ কথা না শোনে তাহলে প্রশাসন আরো কঠোর হতে বাধ্য থাকবে।
বার্তা বাজার/এম.সি