করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কাছে গোটা বিশ্ব যেন হার মেনেছে। বিশ্বে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ করোনাসক্ত হচ্ছে এবং মৃত্যু বরন করছেন।
বিশ্ববাসি এখনো আশার আলো খুঁজে পায়নি। যতটা নিজেদের ঘর বন্ধি রাখা যায় এতে কিছুটা হলেও সংক্রামিত কম হবে এমনটাই ধারনা সবার। তাই দেশের মানুষকে ঘর বন্ধি করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করছেন সরকার।
তাই দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন পুলিশ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসন। প্রতিদিনের ন্যায় রোববার পুলিশ ফোর্স সাথে নিয়ে বের হয় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারি নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দিন দীপু। তার উদ্দেশ্য অপ্রয়োজনে কেউ যেন ঘর থেকে বের না হয়। এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দোকান ব্যতিত অন্য কোনো দোকান যেন খোলা না রাখে ।
বেলা পৌনে ১ টা গোপালগঞ্জের বড় বাজার পরিচালনা প্রায় শেষ এমন সময় দেখতে পায় বাজারের শেষ প্রান্তে একটি মেয়ে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে। পাশে দাড়িঁয়ে আছে সত্তর বছর বয়সি এক লোক। হাতে একটা কাগজ দীপু তাকে জিজ্ঞাস করলো চাচা আপনি এখানে কেন কি হয়েছে? উত্তরে বললেন বাবা ডিসি অফিস থেকে নাকি সাহায্য দিবে। তাই এই কাগজ লিখে জমা দিতে হবে, কাউকে পাচ্ছিনা। কাকে দিয়ে লেখাবো কিছুই বুজতে পারছিনা ।
নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দিন দীপু বলেন, আমি যখন ওই বৃদ্ধ লোকটিকে বললাম এখানে কেন চাচা? তখন আমাকে উত্তর দিলো কিছুনা বাবা, এই কাগজটা লিখতে হবে। কেউরে পাইনা পাশের ছোট্ট চা’র দোহানড্যা আমার। ওর মধ্যেই থাহি , করুনার জন্নি দোহান বন্ধ। ওই দোহানেরতে যা পাতাম তাই দিয়ে চলতি পারতাম। এহন বন্ধ। ঘরে কিছু নেই খাওয়ার সকালের থেকে কিছু খাইনা। পেটে ক্ষুধা।
তারপর চাচা যে কথা বললো, বাবা তোমরাতো সারা দিন করুনার জন্নি কাজ করছো তোমাগেতে কিছু খায়া হয় নাই। তোমরা দাড়াও এই বলে তার ছোট দোকানে ঢুকে হাতে করে ৭-৮ টি কলা নিয়ে আসলেন। বললেন বাবারা তোমাদের মুখ শুকায়গেছে কলা খাও।
এই বলে সবার হাতে একটা করে কলা গুজে নিলেন। ওই সময় আমার সাথে থাকা দুই জন পুলিশ সদস্যর চোখ দিয়ে পানি পড়ছিলো, আমি ও নিজেকে ঠিক রাখতে পালাম না। আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিলো। তখন মনে হয়েছিলো ওই চাচাকে বুকে জড়িয়ে বুকে জড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদতে।
আজ মনে হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষটার কাছ থেকে আমি জীবনের সবচেয়ে বড় উপহারটা পেলাম। একটা কলা যার মূল্য কোটি টাকা দিয়েও শোধ করা যাবেনা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই সময়ই তাকে সামান্য খাদ্যসামগ্রী দেই তাতে আর কত দিন চলবে তার। ৭০ বছর বয়সি ওই চাচা বলেন, আমি না খাইয়া আছি তাই না খায়ার কষ্ট আমি বুজি। ওই মানুষ কয়ড্যারে দ্যাহি মুখ শুকাই গ্যাছে তাই আমার ঘরে ক্যালা ছাড়া কিছু ছেলোনা থাকলি দিতাম।
কেএ/বার্তাবাজার