পিপিই সংকট নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ায় নোয়াখালীতে চিকিৎসককে শোকজ

ফেসবুকে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও বক্তব্যের সমালোচনা এবং পিপিই সংকট নিয়ে সমালোচনা করায় নোয়াখালী সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী সদর হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগে কর্মরত মেডিকেল অফিসার আবু তাহের ১৬ই এপ্রিল তার ফেসবুক টাইমলাইনে দেয়া একটি স্ট্যাটাস দেন। যেখানে তিনি অভিযোগ করেন, যেখানে তার বিভাগের চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় মাস্ক এবং সুরক্ষা উপকরণ পাচ্ছে না।

মাস্ক ও সুরক্ষা উপকরণ মজুদ রাখা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যাচার করছে বলেও তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।

ঐ স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) নোয়াখালী সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়কের দপ্তর থেকে আবু তাহেরের নামে কারণ দর্শানোর একটি নোটিশ জারি করা হয়।

চিকিৎসক আবু তাহের স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য বিভাগকে ‘শিষ্টাচার বর্জিত শব্দ প্রয়োগ’ করে অভিযুক্ত করার ‘অপচেষ্টা’ চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয় নোটিশে।

আবু তাহেরের ঐ স্ট্যাটাস ‘সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বা কোনো শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তুষ্টি, ভুল বোঝাবুঝি বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে বা অন্যকে প্ররোচিত করতে’ পারে অভিযোগ তুলে তার নামে জারি করা হয় ঐ নোটিশ।

চিকিৎসক আবু তাহেরের দেয়া স্ট্যাটাসটি বার্তা বাজারের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

আমি নোয়াখালী ২৫০শয্যা সদর হাসপাতালে কর্মরত একজন এ্যানেসথেসিওলজিস্ট।

রোগীর সবচেয়ে কাছ থেকে আমি চিকিৎসা দেই। গত ১মাসে প্রতিদিন হাসপাতালে গিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমি সহ আমার ডিপার্টমেন্ট এর কেউ ১টিও n95/kn95/ffp2 মাস্ক পাইনি। তাহলে স্বাস্হ্য সচিব মিথ্যাচার কেন করলেন উনি n95 ইকোয়িভেলেন্ট মাস্ক দিচ্ছেন? তাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে মিথ্যা বলতেছে? এই মিথ্যাচার এর শাস্তি কি হবে?

গত ১ মাসে আমার ডিপার্টমেন্ট এ ৮জনের জন্য ২টি পিপিই দেওয়া হয়েছে। এই হলো পর্যাপ্ত পিপিই মজুদ। ওহ কি বলবেন আমরা কাজ করিনা? গত ১মাসে ১৫০এর মত অপারেশন আমি একাই করেছি বাকিদের হিসাব দিলাম না। আপনাদের ওসব পিপিই মাস্ক না পেয়ে আমরা‌ বসে নাই বসে থাকবোও না কিন্তু জাতির সামনে মিথ্যাচার কেনো করবেন।।

আমি নিজের বেতন এর টাকায় কিনা সার্জিকাল মাস্ক পরে প্রতিদিন অপারেশন করি। পিপিই নিজের টাকায় কিনা আছে ,অন্যরা না পরলে‌ একা‌ পরে কি হবে তাই পরি না।
৩মাস কি প্রস্তুতি নিয়েছেন? এখন বলেন এগুলো পাওয়া যাচ্ছে না?

আমাদের অনেকে আজ আপনাদের এসব মিথ্যাচার এর কারনে আক্রান্ত।

@মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এরকম অনেক মিথ্যা প্রস্ততির নাটক সাজিয়ে হাজার কোটি টাকা লোপাট করছে কিছু লুটেরারা দল।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে ডা. আবু তাহের বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দরকার, যেহেতু আমাদের রোগীর মুখের সবচেয়ে কাছে থেকে কাজ করতে হয়। কিন্তু আমাদের বিভাগে এসব সুরক্ষা উপকরণ দেয়া হচ্ছে না।”

তিনি মনে করেন সুরক্ষা উপকরণ না থাকায় চিকিৎসকরা যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন, তেমনি অসুরক্ষিত অবস্থায় বহু রোগীকে চিকিৎসা দেয়া চিকিৎসকরাও অন্য রোগীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন।

ওই চিকিৎসক আরও বলেন, “আমাদের মত দেশে সরকার সব চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীকে সব ধরনের সুরক্ষা উপকরণ দিতে পারবে না, এটা স্বাভাবিক। সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমরা চিকিৎসা দেই। কিন্তু তাহলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মিথ্যাচার করছে যে প্রয়োজনীয় সব উপকরণ মজুদ আছে?” ।।বিবিসি।।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর