আর লাগবেনা তোর দায়িত্ব, এবার ঘরে আয় অনেক ডাক্তার আছেন উনারা এসব দেখবেন। চারদিকে যা শুরু হয়েছে মনে হয় কখন জানি তোকে (ভাইরাস) এসব পেয়ে বসে এসব কথা বলছিলেন, বর্তমান স্বাস্থ্য দুর্যোগে বিরামহীন স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাওয়া এক চিকিৎসকের মমতাময়ী মা।
আসলে পৃথিবীর কোন মায়েই তার সন্তানকে জেনে বুঝে যুদ্ধের ময়দানে দিতে রাজি হবেন না এটাই হয়তো খুবই স্বাভাবিক । তবে একজন দেশপ্রেমিক মানবতাবাদী চিকিৎসক কখনো নিজের কর্তব্যের সাথে আপোষ করবেন না এটাও নিতান্তই সত্য।
এবার বুঝি অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ। সবার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে প্রতিদিন লাশের মিছিলে যোগ হচ্ছেন নামি-দামি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,থেকে শুরু করে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটি। আমরা যারা হোম কোয়ারেন্টাইন নামক (স্বেচ্ছাবন্দী) আছি, বাহিরের পরিবেশ টা স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রতিনিয়ত জীবন বাজি রেখে যারা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এটা ঘুণাক্ষরে ভাবিনা।
সদ্য ডাক্তারি নামক পেশায় প্রবেশ করা এক সাহসী তরুণ ডাঃ তোফায়েল আহমদ (সনি)এম বি বি এস,বিসিএস (স্বাস্থ্য) সহকারী সার্জন ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কে জানত দীর্ঘ পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্জিত ডিগ্রির প্রথম ধাপেই জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নিজেকে দেখবেন। ঝুঁকি নিয়ে বিরামহীন চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ থেকে শুরু করে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বেচ্ছায় চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তিনি।
বর্তমান সময়ে কোভিড-১৯ কর্তৃত্ব পৃথিবী জুড়ে, করোনার দাপটে পৃথিবী অচল প্রায়, আর করোনা ভাইরাস এর মহামারীর কারনে সারা বাংলাদেশের প্রায় বেশিরভাগ চিকিৎসকগণ যখন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন, তখনও এই চিকিৎসক থেমে থাকেননি জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্বেও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা সম্ভাব্য করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করছেন নিয়মিত। চিকিৎসা সেবা দিতে প্রানপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন ।
কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস মহামারি সংক্রমণ এ বিষয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডাক্তার তোফায়েল আহমদ (সনি) আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, আমি ১৯৭১ সালের যুদ্ধ দেখিনি তবে সেটা ছিল দেশ রক্ষার সংগ্রাম আর আজকের দিনের যুদ্ধ মানুষকে বাঁচানো, এই যুদ্ধ দেশ রক্ষার চেয়ে কোন অংশে কম নয়, যদি দেশের মানুষেই না থাকে দেশ দিয়ে কি হবে।
তিনি আরও জানান দেশের এই ক্লান্তি লগ্নে মানুষের জীবন রক্ষার্থে যতক্ষণ পর্যন্ত আমার দেহে প্রাণ থাকবে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাব । আমি আমার জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছি। একজন মানুষ হিসেবে এই মহামারীতে মানুষের পাশে থেকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য আমি মনে করি এই কঠিন মুহুর্তে প্রত্যেকের জায়গা থেকে মানুষের পাশে দাড়ানো উচিৎ। আমাদের সবার সম্মেলিত প্রচেষ্টায় তা সহজেই মোকাবিলা করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
কেএ/বার্তাবাজার