মুন্সীগঞ্জের ছয় উপজেলায় মৃতব্যক্তিসহ নতুন আরও ৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ৪৩ জন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি বার্তা বাজারকে নিশ্চিত করেছেন। সিভিল সার্জন জানান, রোগীদের সংস্পর্শে আসায় দ্রুত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
নতুন আক্রান্তরা হলেন, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের হাতিমারা এলাকার মৃত একব্যক্তি (৭৭), পশ্চিম মুক্তারপুর এলাকার দুইব্যক্তি (২৪) ও (২৮)। টংগিবাড়ী উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের মান্দ্রা এলাকার একই পরিবারের দুইব্যক্তি (২৪) ও (৪২)। সিরাজদিখান উপজেলার আকবনগর এলাকার একব্যক্তি (৬০)।
এদিকে, করোনা আক্রান্ত মৃতব্যক্তি গত বৃহস্পতবিার (১৬ এপ্রিল) বিকালে করোনার উপর্সগ নিয়ে মারা যায়। তিনি নারায়াণগঞ্জে বসবাস করতেন। পরর্বতীতে অসুস্থ অবস্থায় গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের হাতিমারা আসনে। তিনি মারা যাওয়ার আগে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এসে করোনা পরীক্ষার জন্য সোয়াব দিয়ে যান। বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণরে মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
এ নিয়ে ছয় উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩জন ও মৃত ৫জন । এরমধ্যে সদর উপজেলায় মৃত দুইজনসহ ৯জন, সিরাজদিখান উপজেলায় ৭জন, টংগিবাড়ী উপজেলায় মৃত দুইজনসহ ১০জন, গজারিয়া উপজেলায় ৮জন , শ্রীনগর উপজেলায় ৪ জন ও লৌহজং উপজেলায় মৃত একজনসহ ৫জন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানাযায়, গতকাল শুক্রবার মৃতব্যক্তিসহ ৩৪ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। আজ সকালে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ওইখান থেকে মৃতব্যক্তিসহ ৬ জন ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে টংগিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তাসলিমা আক্তার জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে মরদেহ এনে টংগিবাড়ী উপজেলার মান্দ্রা এলাকায় দাফন দেওয়া বৃদ্ধ হামিদ শেখের ভাতিজা (৪২) ও নাতি (২৪) মৃতব্যক্তির সংস্পর্শে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তারা এখন পর্যন্ত সুস্থ রয়েছেন এবং পূর্ব থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। তাদের পরিবারে আর কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা তা পরিক্ষার জন্য প্রত্যেকের সোয়াব সংগ্রহ করা হবে।
অন্যদিকে, সিরাজদিখান উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হওয়া এক গাড়ি চালককে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বদিউজ্জামান । তিনি জানান, করোনা আক্রান্ত রোগী দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ । তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে তাই তাকে ঢাকা পাঠানো হচ্ছে।
সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বার্ত বাজারকে বলেন, মুন্সীগঞ্জে প্রথম করোনা ভাইরাস ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ থেকে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে ছড়ায়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসে নতুন করে আরো আক্রান্ত হচ্ছে। রোগী, তাদের স্বজন ও আশপাশের মানুষ সচেতন না হলে সংক্রমন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
উল্লেখ্য , আজ শনিবার নতুন ৮ জনের সোয়াব পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে জেলার মোট ২৫৩ জনের নমুনা পাঠানো হয়। তার ভেতর থেকে ২৪৫টির রিপোর্ট পাওয়া গেলে ৪৩টি করোনা পজিটিভ আসে।
বার্তা বাজার/এম.সি