ভাইস চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের টিসিবির তেল হরিলুট!

নেত্রকোনায় এক ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টিসিবির তেল লুট করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হলেন, কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভুঞা। তেল লুটের ঘটনায় কেন্দুয়া থানা পুলিশ ২ এপ্রিল একটি সাধারণ ডাইরী করেছে। কেন্দুয়া থানার জিডি নং ৭৭।

সাধারণ ডাইরীর বিষয়টি আমলে নিয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ কেন্দুয়া উপজেলা চত্বরের সিসিটিভির ফুটেজ রেকর্ড দেখেন। সেখানে দেখা যায়, কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভুঞাঁর উপস্থিতিতে ও তার নির্দেশে তেল লুটের ঘটনা ঘটেছে।

টিসিবির প্রায় ১৫০ লিটার তেল তার সহযোগীদের দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে লুট করিয়ে নিজ গাড়ীতে উঠিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নিজেও সেই গাড়ীতে চড়ে চলে যায়। এর পূর্বেও মোফাজ্জল হোসেন ভুঞার বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানার এক নারী পুলিশের সাথে অসদ আচরণের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ নারী সদস্যের সাথে অসদ আচরণের বিষয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশ বিগত ৯ ফেব্রুয়ারী একটি সাধারণ ডায়েরী করে। অসদ আচরণের বিষয়ে মোফাজ্জল হোসেন ভূঞার বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানার জিডি নং ৩৭৯ তারিখ ৯/২/২০২০।

এছাড়াও অভিযু্ক্ত এই ভাইস চেয়ারম্যান ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে বিগত দিনে কেন্দুয়া সিনেমা হল চলাকালীন সময়ে ওই সিনেমা হলে অনৈতিক কর্মকান্ড সংগঠিত করার বিস্তর অভিযোগও লোকমুখে আলোচিত হচ্ছে।

টিসিবির তেল লুট করে আত্মসাৎ এর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেল লুট করার সময়ে গোপন ক্যামেরায় ধারণ কৃত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। মমতা বেগম নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তেল লুটের ছবি আপলোড করে লিখেছে কেন্দুয়াতে চাল চুরের বিচার হয়, আর যারা তেল চুরি করে তাদের কি কোন বিচার নাই প্রশাসনের কাছে???

এই প্রশ্নটা থেকে গেল কেন্দুয়া উপজেলা প্রশাসনের কাছে। এপ্রিল মাসের ০২ তারিখ আমি কেন্দুয়া উপজেলা বাউন্ডারীর ভিতর টিসিভি থেকে তেল নিতে গিয়ে জানতে পারি টিসিবিতে তেল নাই, অথচ এর অনুমান ৩০ মিনিট আগে দেখলাম কেন্দুয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হেসেন ভূইয়ার গাড়ীতে দেখছি ২০ লিটার তেলের ৫ টা কার্টুন, মানে ১০০ লিটার তেল বা আড়াই মন তেল। ক্ষমতাবান আর বড়লোকে ১০০ লিটার তেল পায় টিসিবি থেকে, আর যারা এর সঠিক প্রাপ্য আমার মত গরীব মানুষ তারা খালি হাতে ফিরে যায়। একজনের পেটেই যদি আড়াইমন তেল যায় তাইলে গরীব কেমনে পাইব? হায়রে বাঙ্গালী।
আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার চাই। শীতের সময় কম্বলের জন্যও গেছলাম। পাই নাই। দেখছি গাড়ীতে গাট্টির গাট্টি কম্বল নিছে, গরীব গেলে কম্বল নাই।

দয়া করিয়া একটু দেখবেন, মোফাজ্জল সাহেবের গাড়ির ড্রাইভার, উনার পিএস আসাদুল এবং উনার সহযোগী ইমন কার্টুনের কার্টুন তেল চুরি করে নিয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে জবাব চাই।

আবার একই ঘটনার চুরির ফাসঁ হয়ে যাওয়া ছবি ও ভিডিও আপলোড করে এম ডি আফরিদ জাহান খান নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার আই ডি থেকে লিখেছে অনেকেই অনেক কথা বলতেসেন ভিডিওটা দেখে বুঝবেন। আমার কথা হচ্ছে সাধারণ মানুষ ৩-৪ঘন্টা লাইনে দারিয়ে ৫লিটার পায় আর ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভুইয়া কিভাবে ১৫০লিটার তৈল পায়। অবশ্যই আমি বলতে পারি ক্ষমতার অপব্যাবহার বা চুরি।

এছাড়াও তিনি তেল চুরির ঘটনার কিছু স্থিরচিত্র ফেসবুকে আরেক স্ট্যাটাসে লিখেছেন টিসিবির মাল জন প্রতি ৫ লিটার এর বেশি কিনতে পারে না।
ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া এত তেল কি ভাবে নেয় চুরি নাকি ক্ষমতার অপব্যবহার?

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, টিসিবির তেল লুটের ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। এ বিষয়ে সিসিটিভির ফুটেজ রেকর্ড দেখে তেল লুটকারীদের সনাক্ত করনের তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর