সুনামগঞ্জে বুরো ধানের বাম্পার ফলন, ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা

এবার সুনামগঞ্জ জেলা জুড়ে বুরো ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে, দেশের চলমান সংকটময় পরিস্থিতির মাঝেও কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এ বছর সুনামগঞ্জ জেলায় ২ লাখ ২১ হাজার হেক্টর জমিতে বুরো ধান আবাদ করা হয়।

এবং ১৪ লাখ মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ। তবে এ বছর হাওরের পানি নামতে দেরি হওয়ায় সঠিক সময়ে কৃষক ধান রোপন করতে পারেননি। সুনামগঞ্জের দেখার হাওর, শনির হাওর,মাটিয়ান হাওর ঘুরে দেখা যায় বৈশাখের তৃতীয় দিনেও ধান ৪০ শতাংশ পাকেনি।

সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে ধান কেটে ঘরে তুলার নির্দেশনা দেওয়া হয়, তবে কাঁচা ধান কেটে ঘরে তুললে কৃষক লাভের বদলে লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছেন একাধিক কৃষক। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয় ১৭ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোনায় আগাম বন্যা দেখা দিতে পারে।

প্রতিবছর সুনামগঞ্জ জেলায় এই সময়ে বন্যার আশংকা দেখা দেয়, এ বছর দেশে নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

তাহিরপুর উপজেলার সুলেমানপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ উস্তার আলী বলেন, অন্য বছর চৈত্রের মাঝামাঝিতে ধান কাটা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর সঠিক সময়ে জমি থেকে পানি না নামায় ধান আবাদ করতে দেরি হয় তাই এখন পর্যন্ত ধান পাকেনি। ফলে ধান ঘরে তুলতে তুলতে বৈশাখ প্রায় শেষ হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, গত বছর পোকার কারনে ধান নষ্ট হয়েছে লগ্নি নিয়ে এবার ধান লাগিয়েছি যদি এ বছর ধান ঘরে তুলতে না পারি বাচ্ছা -কাচ্ছা নিয়ে রাস্তায় বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা।

একাধিক স্থানীয় গৃহস্থদের সাথে কথা বললে তারা জানান এ বছর বৈশাখ আসার আগেই আমরা নানা সমস্যায় ভুগছি চলমান ভাইরাসের প্রভাবে বসে বসে খেয়ে নগদ জমানো টাকা শেষ, আর ধান কাটতে শ্রমিকদের নগদ অর্থ দিতে হয় এবং পর্যাপ্ত শ্রমিকেও নেই আবার অনেকেই বেশি দাম চাচ্ছেন।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব সফর উদ্দিন বলেন, আমরা কৃষি অফিস থেকে প্রতিদিন সবাইকে ধান কাটতে উৎসাহ প্রদান করছি, মাইকিং করা হচ্ছে জেলার সর্বত্র ধান কাটার শ্রমিকদের ত্রান দিয়েও সহায়তা করা হবে। অন্যান্য জেলা হতেও শ্রমিক আসছেন ধান কাটতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিয়ম মেনেই নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে ধান কাটার আহবান জানাচ্ছি।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক জনাব আব্দুল আহাদ জানান, বর্তমান মহামারী করোনা ভাইরাস কেবল আমাদের জীবন যাত্রায় নয় পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই এর প্রভাব বিরাজ করছে , সুনামগঞ্জ ধানের দেশ প্রতিবছর দেশের চাহিদার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে বুরো ফসল, এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। সঠিক সময়ে ধান কৃষকের ঘরে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর