পৃথিবী জুড়ে তান্ডব চালাচ্ছে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) নামক ভাইরাস।এই তান্ডবে দিশেহারা আজ আমাদের সবার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশও।প্রায় একমাস ধরে সাধারণ ছুটি ও লকডাউনের কবলে দিশেহারা এদেশের অসহায়, নিম্ন আয়ের মানুষ, চাকুরীজীবি সহ নিম্ন মধ্যবিত্ত বহু পরিবার।করোনা ভাইরাসের মহামারি থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতেই বাংলাদেশ
সরকারের এই লকডাউন ব্যবস্থা।
পুরো দেশের ভয়াবহ অবস্থার মত আমাদের প্রাণের কেরানীগঞ্জও আজ দিশেহারা।ইতিমধ্যেই কেরানীগঞ্জকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।সকলের ঐকান্তিক চেষ্টার পরও কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা এই সংক্রমণের গতি।বিশেষ করে আমাদের কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আন্তরিক চেষ্টার পরেও অবস্থা দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।কিন্তু তাদের সকলের প্রচেষ্টা অবশ্যই প্রশংসনীয়।
এই মহামারি সারাদেশের মত আমাদের কেরানীগঞ্জের সবাইকে দলমত নির্বিশেষে এক বিন্দুতে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।আমার রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সহ সমাজের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন,বিত্তবান লোকজন এবং সরকারের বরাদ্ধকৃত ত্রান বিতরনের কাজ করে যাচ্ছে।সবাই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
দীর্ঘ তের বছর যাবত বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা নানা রাজনৈতিক মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় আক্রান্ত হয়ে ঘরছাড়া, আত্বীয়স্বজন ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া স্বত্তেও আমি সহ কেরানীগঞ্জ উপজেলা দঃশাখা বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা জেলা বিএনপি,অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কেরানীগঞ্জের সূর্য সন্তান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নির্দেশে প্রতিটি ইউনিয়নে যার যার এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছি এবং এখনো সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছি।
মাননীয় মন্ত্রী ও উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব
এই চিঠির মাধ্যমে কেরানীগঞ্জে করোনা মোকাবেলায় আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে দুই একটি প্রস্তাব/অনুরোধ করতে চাচ্ছি।
প্রথমত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুর্যোগ মোকাবেলায় অসহায়, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ৫০ লক্ষ রেশন কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেছেন।উনি স্পষ্ট করে বলেছেন এই কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন রকম দলীয় বিবেচনা না করতে।এই কথার সূত্র ধরেই বলছি আপনারা যদি এই কার্ড বিতরণ করার জন্য যে কমিটি করবেন সেখানেও দলীয় বিবেচনা না করে যদি প্রত্যেকটা এলাকা থেকে গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে (সেখানে যেকোন দলের লোকই থাকতে পারে)করা হয় তাহলে এই রেশন কার্ডের মাধ্যমে যে ত্রাণ বিতরণ করা হবে তা যেন দলমত নির্বিশেষে উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে পৌছায় সেই অনুরোধ রইলো।এর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি উপযুক্ত লোকের হাতেই এই সাহায্যটা পৌছাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।জাতীর এমন মহা দুর্যোগে দলমত ভুলে দেশের স্বার্থে যেকোন কাজ করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।
দ্বিতীয়ত,এই লকডাউনের সময়টাতে আমাদের কেরানীগঞ্জ বাসীকে সচেতন এবং ঘরমুখী রাখতে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সহ কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আপ্রাণ চেষ্টা করেও সুফল পাচ্ছেনা।এক্ষেত্রে আমার মনে হয় যদি কেরানীগঞ্জের প্রতিটা ওয়ার্ডে মসজিদ থেকে মসজিদের ইমাম বা অবিজ্ঞ লোক দ্বারা সচেতনামূলক বার্তা, করণীয় এবং উপজেলা প্রশাসন ও থানা কর্তৃক বার্তাগুলো দিনে অন্তত দুইবার ঘোষণা দেওয়া যেত তবে কেরানীগঞ্জ বাসী এর সুফল পেত বলে আমি মনে করি।এবং উপজেলা কর্তৃক একটা ঘোষণাপত্র তৈরি করে সকল মসজিদে তা পাঠিয়ে দিলে কোন তথ্য বিভ্রাটেরও সুযোগ থাকবেনা।এতে জনগণের সচেতনতা বাড়ার পাশাপাশি আমাদের উপজেলা প্রশাসন ও দুইটি থানার কর্মকতাদেরও কাজটাও হয়তো কিছুটা সহজ হয়ে আসতো।
ইতি,
মোঃমোকাররম হোসেন সাজ্জাদ
হাউলি, জিনজিরা,কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।