যুবলীগ কর্মীর গুদাম থেকে টিসিবির ৯৮০ লিটার তেল ও ৩৬শ কেজি চিনি উদ্ধার

হবিগঞ্জে এক ব্যবসায়ী নেতা ও যুবলীগ কর্মীর গুদামে অভিযান চালিয়ে টিসিবির ৯৮০ লিটার (১৯৬ বোতল) সয়াবিন তেল ও ৩৬শ কেজি (৭৩ বস্তা) চিনি জব্দ করা হয়েছে। নবীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের দাম টিসিবির বিক্রয় মূল্য হিসেবে ২ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা। গুদামের মালিক ওই যুবলীগ কর্মী ও ব্যবসায়ী নেতার নাম নোমান।

এ ঘটনার পর ইনাতগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ কর্মী নোমান পালিয়ে গেছেন। এ সময় তার ভাইসহ ৫ জনকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন-নোমানের ছোট ভাই আমান হোসেন (৩০), কর্মচারী লিংকন রায় (৩০), ছমেদ মিয়ার পুত্র সিরাজ মিয়া (৪০), আব্দুল কালাম, আবুল কালাম (৪২)।

নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার ইনাতগঞ্জ বাজারে নোমান হোসেনের দোকান ও গোদামে অভিযান চালায়। সেখানে টিসিবির মাল না পেয়ে পাশ্ববর্তী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আলীগঞ্জ বাজারে তার গুদামে অভিযান চালান জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত। এ সময় গুদামে লুকিয়ে রাখা টিসিবির ৫ লিটারের ১৯৬টি বোতল সোয়াবিন তেল ও ৫০ কেজি ওজনের ৭৩ বস্তা চিনি জব্দ করা হয়। টিসিবি ডিলাররা খোলাবাজারে ৮০ টাকা লিটার দরে তেল ও প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে চিনি বিক্রি করে থাকেন।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসির আরাফাত মালামাল জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ব্যবসায়ী নোমানের ভাই আমান হোসেন জানিয়েছেন নবীগঞ্জ উপজেলা সদরের টিসিবির ডিলার গালিব ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল হাদীর কাছ থেকে এসব পণ্য ক্রয় করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তবে ডিলার আব্দুল হাদী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ২০বছর ধরে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন। কোনো সময়ই এ ধরনের কাজ করেননি তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, নোমান ইনাতগঞ্জ এলাকার একজন বড় ব্যবসায়ী। তার কমপক্ষে ৩০টি ছোট বড় গোডাউন ইনাতগঞ্জ ও পাশ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলায় রয়েছে। তিনি ডিলার না হয়েও টিসিবির মালামাল গুদামজাত করেছেন খবর পেয়ে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, ‘ইনাতগঞ্জে টিসিবির কোনো ডিলার নেই। পাশ্ববর্তী কামারগাও ও বান্দেরবাজারের জামান ভেরাইটিজ স্টোরের মালিক টিসিবির ডিলার রয়েছেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে টিসিবির মাল ক্রয় করছেন না বলে শুনেছি। তিনি অবৈধভাবে নোমানের কাছে মাল বিক্রি করছেন কি না খোঁজ নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

এদিকে জামান ট্রেডার্সের মালিক জামাল জানান, বৃহস্পতিবারেও তিনি টিসিবি থেকে ১ গাজার ৫০০ লিটার তেল, ১ টন চিনি ও ১০০ কেজি ডাল উত্তোলন করেছেন।

বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর