ঝুঁকি নিয়েই স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সিরাজদিখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পরে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলছেন অনেকেই। চিকিৎসা দিতে চাচ্ছেন না এমন অভিযোগ উল্লেখ করে অনেকেই তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরণের বিরূপ মন্তব্য করে পোস্ট দিতে শুরু করেন।

তবে এমন পরিস্থিতিতেও অনেক চিকিৎসকই রয়েছেন যারা রাত-দিন এক করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আক্রান্ত মানুষদের। শুধু চিকিৎসক নন, চিকিৎসা কর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিক, এমনকি স্বেচ্ছাসেবী অনেক মানুষও এগিয়ে এসেছেন এই বিপদের সময়ে।

তারা পরিবারের কথা মাথায় না রেখেই, সংক্রমণের ঝুঁকি আর পর্যাপ্ত পিপিই বা সুরক্ষা সরঞ্জামাদির নিশ্চয়তা না পেয়েও নিয়মিতই কর্মস্থলে গিয়ে সেবা দিচ্ছেন। প্রশাসন ও পুলিশকে কেউ বলতে না পারলেও অনেকে সাংবাদিক ও ডাক্তারদের খোচা দিতে কার্পন্য করেন না।

প্রকাশ্যেই বলে দেয় “ওই ডাক্তার যাচ্ছে। করোনা রোগী ধরে আসছে”। আমাদের এলাকায় করোনা ছড়ালে উনিই নিয়ে আসবে। বাস্তবতা হল অনেক রোগীই আসছেন যারা তাদের হিস্ট্রি বা স্বাস্থ্য তথ্য গোপন করে চিকিৎসা করায়। এতে করে আসলে কোন লাভ তো হচ্ছেই না, বরং রোগী এবং চিকিৎসক দুজনেরই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।

এছাড়া সুরক্ষা সরঞ্জামাদির অভাব রয়েছে বলেও জানা যায়। সরকার নানা আশ্বাস দিলেও আসলেই কি বাংলাদেশের চিকিৎসকরা নিরাপদে কাজ করছেন? চিকিৎসকদের কাছ থেকে যে তথ্য মিলছে, তাতে ভয়াবহ ঝুঁকির চিত্রই উঠে আসছে৷

করোনায় সংক্রমণ বাড়ছে, শঙ্কাও বাড়ছে ব্যাপক আতঙ্ক ও অজস্র প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। দেশে প্রথম ডাক্তার একজন মারা যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। ডাক্তারদের পরিবারের সদস্যরা চরম হতাশা ও উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। যেখানে অন্যান্য সকল পেশাজীবিরা দূর থেকে সেবা দিলেও ডাক্তাররা সরাসরি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ছোয়ার মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

তারা একবারও ভাবছেন না এ ছোয়াও হতে পারে শেষ ছোয়া। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, তেমনি সাধারণ মানুষের মাঝেও ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। ডাক্তারদেরও ভয় আছে। তাদেরও পরিবার আছে, সন্তান আছে। রনঘাতি এবং সাংঘাতিক ছোঁয়াচে রোগের চিকিৎসা কাছে থেকে দেয়া ভীষন মানসিক চাপে রয়েছে ডাক্তাররা।

আইসিইউতে একটি মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার চাপই অপরিসীম। তার সাথে যখন যোগ হয় নিজের বেঁচে থাকার চাপ সেই চাপ কত ভারী হতে পারে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আক্রান্তদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী। এখন পর্যন্ত ৭৫ জন আক্রান্ত তিনজন আই সি ইউতে।

মারা গেছে একজন ডাক্তার ও একজন হেলথ এসিস্ট্যান্ট। গনমাধ্যমকর্মী, আইনশৃংখলা বাহিনী, স্বেচ্ছাসেবী এবং অন্যান্যদের সাথে স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি বিরাট তফাৎ হল স্বাস্থ্যকর্মীরা ভাইরাসের ডিপোর মধ্যে থাকে, অন্যরা নয়। স্বাস্থ্য কর্মীদের রিপিটেড এক্সপোজারে ভাইরাল লোড অনেক অনেক বেশী থাকে। তাই এদের ঝুঁকি অনেকাংশেই বেশী।

ডাক্তারদের অনেকেরই যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ীর লোকজনও এদের জন্য ঝুঁকিতে থাকে। এদের যাতায়াত, থাকা, খাওয়ার সুবিধাদি না দিলে সার্ভিস ব্যাহত হতে বাধ্য। সিলেট থেকে করোনায় আক্রান্ত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসতে চাইলে প্রশাসনের কোন সাহায্য পায়নি। এই ডাক্তারদের সাপোর্ট না দিলে তারা কোথায় যাবে এবং রাষ্ট্রীয় কাজ করবে কিভাবে?

ডাক্তার না বাঁচলে কেউ বাঁচবে না। ডাক্তারের নানান রকম খারাপী থাকতে পারে, কিন্তু রোগীর জীবনের জন্য যুদ্ধ করেনা এমন কোন ডাক্তার নেই। এদেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় কি শুধু ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ররা পড়ে? বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, আইনের ছাত্ররা পড়ে না?

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ বদিউজ্জামানের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের সামনে একটি অস্থায়ী বেসিং বসিয়ে সেবা নিতে আসা রোগীদের জন্য অস্থায়ী ভাবে হাত ধোঁয়ার ব্যাবস্থা করা হয়।

ডাঃ মোঃ বদিউজ্জামানের শ্লোগান, প্রথমে হাত ধুয়ে তার পর সেবা নিন। করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সাবধানতা অবলম্বনের কোন বিকল্প নেই। এ সম্পর্কে আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করুন। নিজে সচেতন হোন এবং অন্যকে সচেতন করুন।

জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বার্তা বাজারকে তিনি আরো বলেন, সাবান দিয়ে ঘন ঘন হাত ধুতে হবে। কাপর ধোয়ার সাবান হলে ভাল হয়। এছাড়া সেনিটাইজার বা হেস্কিসল ব্যাবহার করতে পারেন। যে কোন স্থানে মাস্ক ব্যাবহার করতে হবে।

তবে যারা মাস্ক ব্যাবহার করতে পরাছেন না তারা হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় কনুইয়ের মাঝে মুখ চেপে হাঁচি কাশি দিন। কফ বা থুথু যে খানে সেখানে না ফেলে টিস্যু ব্যাবহার করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। যারা বাইরে কাজ করে তাদের বাড়ি ফিরে প্রথম কাজ হলো হাত ধোয়া ও মুখ ধোয়া। সম্ভব হলে গোসল করে ফেলা।

বাড়িতে ঢোকার পর লক্ষ্য রাখতে হবে যে, তার শরিরের সাথে বাড়ীর লোকজনের যাতে স্পর্শ না লাগে গোসল করার আগ পর্যন্ত। কারো যদি সাধারণ সর্দি কাশি হয় তাদের ক্ষেত্রে আমরা বলি তারা যেন হাসপাতালে না আসে। আমাদের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসারের ০১৭৩০৩২৪৫১৬ এ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিবেন।

যারা হাসপাতালে সেবা নিতে আসবে তারা যেন মাস্ক পরিধান করে আসে। এখানে আসাসহ অন্যান্য স্থানে কারো সাথে কেউ যেন হ্যান্ডশেক এবং কোলাকোলি না করে। এছাড়াও প্রতি জন থেকে অন্য জনের অন্তত তিন ফিট দূরত্ব বজায় যেন রাখতে হবে। যারা হাসপাতালে রোগী তাদের সাথে একজন থাকতে পারবে।

রোগীর সাথে কোন দর্শনার্থী আসতে পারবে না। সব সময় কুসুম গরম পানি পান করাই ভালো। যদি কেউ অনুভব করে সে করোনা আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন, তবে গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে খেতে হবে।

গরম পানি ও গরমে করোনা ভাইরাস টিকতে পারে না। যারা সুস্থ্য আছেন আমি তাদেরকে বলবো প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি খাওয়ার জন্য। যেমন লেবু, কমলা লেবু, মালতা, আমলকি ও শাকসবজিসহ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। এই জিনিসগুলি যদি মেনে চলতে পারি তাহলে করোনা থেকে আমাদের রেহাই পাওয়া সম্ভব হবে।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর