মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে নতুন রূপ দিলেন সাংবাদিক-স্বেচ্ছাসেবক

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে যখন চারিদিকে মানুষ ঘরবন্দি তখন রাস্তায় পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের খোঁজ খরব রাখার মত কেউ নেই! কিন্তু সবকিছু ছাড়িয়ে মানবতার সেবায় একদল মানুষ সর্বদাই নিয়োজিত থাকে। তেমনই একটি ঘটনা দিনাজপুর শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকায়।

রাস্তার ধারে পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির পাশে এগিয়ে এসেছেন সাংবাদিক ও একদল স্বেচ্ছাসেবক। নিয়মিত খাবার দেওয়া, নতুন জামা কাপড় ও চুল কেটে সুস্থ্য করে তোলার প্রয়াসে কাজ করে যাচ্ছেন এই দলটি। এই স্বেচ্ছাসবক দলটি দিনাজপুর শহরের মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি, পথ শিশু ও অবলা প্রাণী কুকুরকে নিয়মিত খাবার পরিবেশ করে আসছেন। তবে এই ভালো কাজে সহযোগিতারও হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই।

দিনাজপুরের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাণীকূলের প্রতি এহেন ভালোবাসা দেখে স্বয়ং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের নৌপরিহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপিসহ অনেকেই।

স্বেচ্ছাসেবক এই দলে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন দিনাজপুরের সুমানধন্য ব্যক্তি দিনাজপুর নাগরিক কমিটি ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও সাংবাদিকও আছেন দু’জন। দৈনিক দেশ রূপান্তর ও অনলাইন পত্রিকা বার্জাবাজার এর দিনাজপুর প্রতিনিধি আব্দুল মোমেন ও অনলাইন নিউজ পত্রিকা বাংলানিউজ২৪.কমের দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি কোরবান আলী স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে উপস্থিত থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই সাথে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের জন্য তহবিল গঠন করে আরো বিস্তর পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা শুরু করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলটি।

স্বেচ্ছাসেবক দলের টীম লিডার হিসেবে কাজ করছেন আফসানা ইমু। আফসানা ইমুকে সহযোগিতা করছেন দোলা আক্তার, আয়না খানম। গত বৃহস্পতিবার বিকালে শহরের ষষ্ঠীতলা এলাকায় রাস্তায় পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তিকে পরিস্কার পরিচ্ছন করার পাশাপাশি নতুন জামা কাপড় পড়িয়ে নতুন এক রূপে সজ্জিত করেছেন দলটি। এ কাজের জন্য অনেকের কাছে অবশ্য প্রশংসাও পেয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে দিনাজপুর নাগরিক কমিটি ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সারাবিশ্ব যখন করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ তখন অনেক মানুষই বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রাস্তায় রাত কাটানো মানুষ গুলো। দিনাজপুর শহরে পথ শিশু, মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ গুলোর নিয়মিত খোঁজখবর রাখার কাজ করছেন একদল স্বেচ্ছাসেবক। তাদের এই মহৎ কাজগুলো যেনো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে উৎসাহিত হয়ে অন্যরাও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় আমি এই আহবানটুকুই করব।’

এ বিষয়ে আফসানা ইমু বলেন, ‘আমার নিজের ৬টি পোশা কুকুর আছে। আমি অবলা প্রাণী, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি ও পথশিশু যারা কষ্টে থাকেন তাদের কষ্ট দেখে থাকতে পারি না। আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করি সবার পাশে দাঁড়াতে। তবে এই কাজে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন আবুল কালাম আজাদ (দাদুভাই) ও সাংবাদিক মোমেন ভাই। তারা না হলে হয়ত আমরা সব কাজ করতে পারতাম না।’

দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমি স্কুল জীবন থেকে অনেকগুলো স্বেচ্ছাসেবক দলের সাথে কাজ করে এসেছি। বর্তমানে সাংবাদিকতার পাশাপাশি এই দুর্যোগকালীন সময়ে অবলা প্রাণী, অসহায় মানুষের পাশে স্বেচ্ছায় দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমাদেরকে অনেকেই আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন। যারা সহযোগিতা করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা! আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ভালো কিছু করার। সবার দোয়া ও সহযোগিতা পেলে আরো ভালো কাজ করার সুযোগ পাব।’

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর