ফেসবুকে চিকিৎসকের ক্ষোভ, এন-৯৫ মাস্ক পাঠালেন আ’লীগ নেতা সিহাব

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে সুরক্ষা সরঞ্জাম এন-৯৫ মাস্ক যখন সোনার হরিণ। সাধারণ সার্জিকেল মাস্ক পড়ে যখন জীবনের ঝূঁকি নিয়ে কাজ করছেন বরগুনা হাসপাতালের চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা ঠিক তখন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের একমাত্র করোনা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুল আজাদ ‘এন-৯৫ মাস্ক’ চেয়ে ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস লিখেছিলেন। বরগুনার জেলা প্রশাসকসহ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ফেসবুকে ট্যাগ করে স্ট্যাটাসটিতে তিনি লিখেছিলেন ‘এন-৯৫ মাস্ক দিন অথবা মৃত্যুর মাধ্যমে পালাতে দিন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তিনজন করোনাক্রান্ত রোগীসহ প্রায় ২৩জন করোনা সন্দিগ্ধ রোগীর একমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এ তরুণ চিকিৎসকসহ একাধিক চিকিৎসক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ওয়ার্ড ইনচার্জ, নার্স এবং ক্লিনার মিলিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন স্বাস্থকর্মী জীবনের ঝূঁকি নিয়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন এন ৯৫ মাস্ক ছাড়াই। ডা. কামরুল আজাদ-এর ওই স্ট্যাটাস নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও রাজধানী ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মশিউর রহমান সিহাব বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে কর্মরত চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য মোট এক’শটি এন-৯৫ মাস্ক পাঠিয়েছেন।

আজ সকালে এসব মাস্ক বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: মোঃ সোহরাব উদ্দিনের হতে পৌঁছে দেয়া হয়। তত্বাবধায়ক ডা: মোঃ সোহরাব উদ্দিন তা
আনুষ্ঠানিকভাবে ডা. কামরুল আজাদ-এর কাছে হস্তান্তর করেন।

এ বিষয়ে ডাঃ আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের স্পষ্ট গাইডলাইন রয়েছে যে, যারা করোনা রোগীর সেবায় যাবেন বা নমুনা সংগ্রহ করবেন তাদের অবশ্যই এন-৯৫ মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। অথচ আমাদের কাছে কোন এন-৯৫ মাস্কই নেই। বরগুনা হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মী কোন রকম সার্জিক্যাল মাস্ক পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নমুনা সংগ্রহসহ করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে যা ভয়ংকর ঝুঁকিপূর্ণ।

ডা: আজাদ আরও বলেন, এই মুহুর্তে যদি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের কোন চিকিৎসক বা নার্স করোনাক্রান্ত হয়ে পড়েন তবে পুরো সিস্টেমটাই কলাপস্ করতে পারে।

ডা: আজাদ আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান সিহাবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন। এই মুহুর্তে মশিউর রহমান সিহাব যে কাজটি করেছেন তা সত্যিই প্রসংশনীয়। এভাবে সকল নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ সামথর্য অনুযায়ী এগিয়ে আসলে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করা অনেকটাই সহজ হবে।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও তরুণ ব্যবসায়ী মশিউর রহমান সিহাব বলেন, এন-৯৫ মাস্ক এখন মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের এই দুঃসময়ে অতিগুরুত্বপূর্ণ এই চিকিৎসা সামগ্রী নিয়েও সিন্টিকেট বাণিজ্য করছে একদল অসাধু ব্যবসায়ী। আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করে রি-ইউজেবল এক’শটি মাস্ক পেয়েছি যা প্রায় দিগুন দামে কিনতে হয়েছে। এসব মাস্ক কেনার সাথে সাথেই তা বিশেষ ব্যবস্থায় বরগুনা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। আশা করি এসব মাস্ক দিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিট তাদের কার্যক্রম ভালোভাবেই চালিয়ে যেতে পারবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে করোনা দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকে মশিউর রহমান সিহাব দিনের পর দিন বরগুনার বিভিন্ন গ্রামে সরাসরি উপস্থিত থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মহীন অসহায় পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলু, সাবান, হ্যান্ড সেনিটাইজার ও সার্জিক্যাল মাস্ক বিতরণ করেন।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর