করোনা যুদ্ধে দেশের প্রথম শহীদ চিকিৎসক ডা. মঈন উদ্দিনকে গতকাল বুধবার রাতে গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে তার শেষ ইচ্ছানুযায়ী মা- বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়।
ছাতক উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বুধবার রাতেই সংক্রামক ব্যাধি আইন অনুযায়ী তার দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ দেশের সব শ্রেণীপেশার মানুষ একজন সু-নামধন্য চিকিৎসকের অকালে চলে যাওয়ায় শোক প্রকাশ করেছেন। তবে তার মৃত্যু হয়েছে যুদ্ধ করে নিজের সাথে নিজের বিবেকের সাথে আপোষ করেননি। তাহাকে সবাই গরীবের ডাক্তার হিসেবেই বেশি চিনতেন। বাবা ছিলেন পল্লী চিকিৎসক তিনিও মানুষের সেবা করেছেন, এলাকার কোন অসহায় মানুষ মঈনের চেম্বারে চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে কখনো অর্থ রাখেননি।অসহায় গরীব রুগীকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা সহ আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতেন। সপ্তাহে একদিন এসে নিজ গ্রামে রুগী দেখতেন এবং কোম্পানির দেওয়া সেম্পল ঔষধ মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। সবার ভালবাসার মধ্যমনি ছিলেন ডাক্তার মঈন। ডা. মঈন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন, বিরামহীন রুগী দেখতে গিয়েই তিনি করোনায় সংক্রামিত হন। তিনি দু সন্তানের জনক তার স্ত্রী একজন চিকিৎসক।
উল্লেখ্য, সিলেটে করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগী ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টায় ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। গত ৫ এপ্রিল তার শরীরে করোনা রোগ ধরা পড়ে। পরে চিকিৎকদের পরামর্শমতে তিনি বাসায় কোয়ারেন্টিন অবস্থায় চিকিৎসা নিতে থাকেন। তার শরীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে ৭ এপ্রিল তিনি নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ৮ এপ্রিল সেখান থেকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত সোমবার হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোর সাড়ে ৪টায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বার্তা বাজার/এম.সি