বিশ্বব্যপী করোনা মহামারীর আগ্রাসনে বিপর্যস্ত গোটা দেশের মানুষের জীবন যাত্রা। অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।
জনপ্রতিনিধিদের হিসেব মতে সরকারী ও বেসরকারী ত্রান জুটেছে ১০% মানুষের ভাগ্যে। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় শত কোটি টাকা ত্রান সহায়তা দিলেও এপর্যন্ত করোনা সংকটে নির্বাচনী এলাকার মানুষের পাশে নেই চট্টগ্রাম সাতকানিয়া-লোহাগাড়া (১৫-আসনের) সাংসদ। এই মহাদূর্যোগে এমপি নদভীর নিরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয়রা।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানায় মোট ৯টি ইউনিয়ন। ইউনিয়ন গুলোতে অধিকাংশ নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। করোনা পরিস্থিতিতে এসব প্রান্তিক মানুষ গুলো সরকারী নিষেধাজ্ঞা মেনে ঘরে অবরুদ্ধ রয়েছে। আয় রোজগার বিহীন হাজার হাজার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে এটাই চলমান বাস্তব চিত্র।
লোহাগাড়া থানার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ইউনুছ, বড়হাতিয়া ইউনিয়নের জুনায়েদ,আধুনগর ইউনিয়নের আইউব মিয়া,চুনতি ইউনিয়নের জনু, লোহাগাড়া ইউনিয়নের নূরুচ্ছফা, চরম্বা ইউনিয়নের মাষ্টার শফি, পদুয়া ইউনিয়নের জহির ও পুটিবিলা ইউনিয়নের হাজী ইউনুছ চেয়ারম্যানসহ মোট ৯জন চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এপর্যন্ত ৯টি ইউনিয়নে অন্তত সাড়ে ৬ হাজার লোক জনের মাঝে সরকারী ত্রান বিতরন করা হয়েছে।
তার পাশাপাশি প্রত্যেক চেয়ারম্যান নিজস্ব তহবিল থেকে অন্তত ৫হাজার পরিবার কে সাধ্য মতো ত্রান সহায়তা দিয়েছে। চলমান সংকটে প্রয়োজনের তুলনায় যা বিতরন করা হয়েছে তা অপ্রতুল।
স্থানীয় এমপি নদভীর ভূমিকা কি জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অধিকাংশ চেয়ারম্যান জানান, এমপি নদভীর পক্ষ থেকে এই পর্যন্ত কোন ত্রান সামগ্রী কোন জনগণের হাতে পৌছেছে এমন সংবাদ পাওয়া যায়নি। আমাদের সাথেও কোন যোগাযোগ করেনি।তবে একজন এমপি হিসেবে এই দূর্যোগকালীন সময়ে এলাকার জনসাধারণের পাশে থাকাটা খুবই জরুরী।
এসব বিষয়ে এমপি নদভী বার্তা বাজারকে জানান, সরকারী ভাবে আমি ২০হাজার টন রেশন বরাদ্দ পেয়েছি, ইতিমধ্যে কিছু রেশন বন্টন করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে সব বন্টন করা হবে।
এদিকে স্থানীয় প্রতিনিধিদের অভিযোগ আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের নামে রোহিঙ্গা সংকটে কোটি কোটি টাকা সহায়তা দিয়ে ছিলেন কিন্তু দেশের এই সংকটে আপনার সেই ফাউন্ডেশন নিরব রয়েছে কেনো এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, করোনায় নিজের নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করে এলাকায় যাওয়াটা নিরাপদ মনে করছিনা।
এমনকি আমি রেশন দিলে স্থানীয় চেয়ারম্যানরা নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করবে সুতরাং চেয়ারম্যানদের প্রতি আমার আস্থা নেই। রমজানে করোনার অবস্থা স্থিতিশীল হলে প্রশাসনের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রেশন বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংসদ নদভীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে সুশীল সমাজ নেত্রীবৃন্দরা বলেন, জনসেবা করতে কোন বিশেষ দিন, মাস, সময়ের প্রয়োজন হয় না। সেবার মনোভাব থাকলে যে কোন কঠিন সময়েও জনগণের পাশে দাঁড়ানো যায়।
কেএ/বার্তাবাজার